• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
লোভাছড়া কোয়ারির দুই মামলার তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ; বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি ২৫ জুলাই আলিয়া মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফলে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের প্রস্তুতি সভা বিশেষ দেশকে খুশি করতে ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী এইচএসসির প্রশ্নপত্রে ত্রুটি: ৪ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ ‘মন্ত্রী-এমপির ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে’ প্রবাসীর মরদেহ পরিবহন-দাফনে তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিশোধ: ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার এক দীর্ঘ, তিক্ত যাত্রা শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই রায় কার্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে সেই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে যত অ ভি যো গ ছাদখোলা বাসে হলান্ডদের বীরোচিত সংবর্ধনা ফ্রান্সের হৃদয় ভেঙে ফাইনালে স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ সেই ১৪ জুলাই: ‘রাজাকার’ বলার দিনেই ‘মুরগিতে’ উত্তাল দেশ আমরা জুলাই শহীদদের কাছে চিরঋণী : বিরোধীদলীয় নেতা ইসরায়েলের সঙ্গে যেভাবে জড়িয়ে গেল মেসির নাম দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার-হাসিনাকে আইনমন্ত্রী ছাত্রশিবির ছাড়ার ঘোষণা সাদিক কায়েমের গুগলে ‘চোরের দলের ফুটবল খেলা কবে’ সার্চ দিলেই যে ফল দেখাচ্ছে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

জেনে নিন হাঁস দিয়ে কীভাবে ‘বাঁশ’ খেতে হয়

Reporter Name / ৬১০ Time View
Update : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

301

বাঁশ খাওয়া’ শব্দদ্বয় শুনে আঁতকে ওঠতে চাইলেও পরের অংশ পড়ে নিশ্চয় ভয় কেটে যাবে। ‘বাঁশ খাওয়া’ মানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়; আসলে সত্যি সত্যি বাঁশ খাওয়া যায়, এবং সঠিকভাবে খেলে এটা খুব সুস্বাদু।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার তালিকায় বাঁশের কোঁড়ল / খরিল (বাঁশের মোচা) একটি জনপ্রিয় খাবার। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এটিকে খরিল, কোঁড়ল, মোচা, করুল, খরইল নামে চেনেন। হাঁস দিয়ে বাঁশ খাওয়া মানে বাঁশের খরিল হাঁসের মাংস দিয়ে খাওয়া খুব উপাদেয়। এটা সবজি হিসেবে স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।

সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এলাকায় এই বাঁশের কোঁড়লের সবজি পাওয়া যায়। এটি সারাবছর মেলে না; সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসে পাওয়া যায়

বাঁশ দিয়ে হাঁসরান্না করা খাবার সিলেটের একটি অতি পুরাতন খাবার। তবে সিলেটিদের অনেক আগেই পাহাড়িরা বা অন্য জাতি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করত। পাহাড়িদের অন্যতম জনপ্রিয় সুস্বাদু খাবার বাঁশ কোঁড়ল। সিলেটসহ পার্বত্য তিন জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) এলাকায় বাঁশ বন থাকায় বাঁশ কোঁড়ল এখানে সহজলভ্য। মারমারা একে “মহ্ই”, আর ত্রিপুরা “মেওয়া” বলে থাকে। চাকমা ভাষায় বাঁশ কোঁড়লকে বলা হয় “বাচ্চুরি”।

কেবল সিলেটেওই নয়, বিভিন্ন দেশেও এই বাঁশ খাওয়া হয়। এই বাঁশের খরিলকে জাপানে তেকেনাকো, চীন ও থাইল্যান্ডে ব্যাম্বো স্যুট, মিয়ানমারে মায়াহেট, নেপালে থামা, আসামে বাঁহ গাজ/খবিচা, এবং ইন্দোনেশিয়ায় রিবাং নামে অভিহিত করা হয়।

বাঁশের কোঁড়লের পুষ্টিগুণ: বাঁশের কোঁড়লে পানির পরিমাণ ৮৮-৯৩%, প্লোট্রিনের পরিমাণ ১.৫-৪% ,চর্বির পরিমাণ ০.২৫-০.৯৫% , চিনির পরিমাণ ০.৭৮-৫.৮৬% ,সেলুলোজ ০.৬০-১.৩৪% এবং খনিজ পদার্থ ১.১% সহ পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনও রয়েছে।

বাঁশের কোঁড়ল বা খরিল কাচা খাওয়া উচিত নয়। এটা হাঁপানি রোগীদের সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে; দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়; উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়; কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে; ডায়াবেটিস রোগীরা বাঁশের কোঁড়ল খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া তীব্র জ্বর,এমনকি মৃগী রোগের নিয়ন্ত্রণের বাঁশের গুণ অপরিসীম।

বাঁশের কোঁড়ল সাধারণত, চিংড়ি, মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, শুটকি, কচু শাক,পালংশাক, বিশেষ করে হাঁস দিয়ে রান্না করলে খুব মজাদার হয়।

হাঁস দিয়ে বাঁশ রান্নার প্রস্তুতপ্রণালী ও রেসিপি :
প্রথমে কোঁড়লের উপরের অংশ ফেলে দিয়ে বাঁশের ভিতরের নরম শ্বাসগুলো একটি বল কিংবা কড়াইয়ের ফুটন্ত পানিতে হাফ সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ হয়ে গেলে পছন্দমত পিস পিস করে কেটে টুকরো করে নিতে হবে।

উপকরণ # কোঁড়ল ১ কেজি, হাঁসের মাংস ৩০০/৪০০ গ্রাম, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, লাল মরিচ ১ চা চামচের ৩ ভাগের এক ভাগ, জিরা গুঁড়া-১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমত, হলুদ পরিমানমত, কাঁচা মরিচ ১০ পিচ, ধনে পাতা পরিমাণমত।

এরপর কড়াইয়ে এক কাপ পরিমাণ সয়াবিন তেল দিয়ে গরম হলে এর মধ্যে হাঁসের মাংস মাছ ছেড়ে দিয়ে কিচ্ছুক্ষণ নাড়াছাড়া করার পর এর মধ্যে পেয়াজ কুচি, রসুন কুচি, আদা কুচি আর জিরা গুড়া দিয়ে তেলের মধ্যে ভালোভাবে কষিয়ে অল্প আঁচে বাঁশের কোঁড়লগুলো ছেড়ে দিতে হবে। এরপর কতক্ষণ পর পর নাড়াছাড়া করে মসলা আর কোঁড়লের মধ্যে একটা সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। এরপর ভূনা হয়ে গেলে দেড় কাপ পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। এবার পানি কমে আসলে এর মধ্যে কয়েকটা কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা দিয়ে মাখা মাখা হয়ে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd