• শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সাবেক এমপি মাওঃ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে মুফতি আবুল হাসানের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজধানীতে গ্যাস সংকট সমাধানের দাবিতে জামায়াতের মানববন্ধন লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের ১১ দলীয় জোট হতে বের হওয়ার ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোন পথে চরমোনাই পীরের দল? ফেব্রুয়ারিতে যে দুই দফায় ছুটি পাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীরা সিলেটে ৫ মাস ধরে বন্ধ আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট সমঝোতায় বিসিবি-ক্রিকেটাররা, শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল সিলেটে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, আ ট ক ৩ জৈন্তাপুরে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলন: ভোট-জরিপে কার অতীত কেমন? ১১ দলের চুড়ান্ত তালিকা,হবিগঞ্জ -১ এ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহাজান আলী ১১ দলের চুড়ান্ত তালিকা,সিলেট-৩ এ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী লোকমান আহমদ ১১ দলের চুড়ান্ত তালিকা,সিলেট-৪ এ জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট সচল রাখা ও ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালুর দাবি জামায়াতের সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মানিক (কালা মানিক) এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সেলিম মিয়াকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সিলেট জেলা বিএনপির নেতা মানিক আটক ইসলামে ভ্রমণের গুরুত্ব পে-স্কেল নিয়ে ফের বৈঠক আজ, চূড়ান্ত হতে পারে যেসব বিষয় ইসলামী আন্দোলন ইস্যুতে নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিলেন জামায়াত আমির

জেনে নিন হাঁস দিয়ে কীভাবে ‘বাঁশ’ খেতে হয়

Reporter Name / ৪২৩ Time View
Update : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

50

বাঁশ খাওয়া’ শব্দদ্বয় শুনে আঁতকে ওঠতে চাইলেও পরের অংশ পড়ে নিশ্চয় ভয় কেটে যাবে। ‘বাঁশ খাওয়া’ মানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়; আসলে সত্যি সত্যি বাঁশ খাওয়া যায়, এবং সঠিকভাবে খেলে এটা খুব সুস্বাদু।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার তালিকায় বাঁশের কোঁড়ল / খরিল (বাঁশের মোচা) একটি জনপ্রিয় খাবার। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এটিকে খরিল, কোঁড়ল, মোচা, করুল, খরইল নামে চেনেন। হাঁস দিয়ে বাঁশ খাওয়া মানে বাঁশের খরিল হাঁসের মাংস দিয়ে খাওয়া খুব উপাদেয়। এটা সবজি হিসেবে স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়।

সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এলাকায় এই বাঁশের কোঁড়লের সবজি পাওয়া যায়। এটি সারাবছর মেলে না; সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসে পাওয়া যায়

বাঁশ দিয়ে হাঁসরান্না করা খাবার সিলেটের একটি অতি পুরাতন খাবার। তবে সিলেটিদের অনেক আগেই পাহাড়িরা বা অন্য জাতি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করত। পাহাড়িদের অন্যতম জনপ্রিয় সুস্বাদু খাবার বাঁশ কোঁড়ল। সিলেটসহ পার্বত্য তিন জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) এলাকায় বাঁশ বন থাকায় বাঁশ কোঁড়ল এখানে সহজলভ্য। মারমারা একে “মহ্ই”, আর ত্রিপুরা “মেওয়া” বলে থাকে। চাকমা ভাষায় বাঁশ কোঁড়লকে বলা হয় “বাচ্চুরি”।

কেবল সিলেটেওই নয়, বিভিন্ন দেশেও এই বাঁশ খাওয়া হয়। এই বাঁশের খরিলকে জাপানে তেকেনাকো, চীন ও থাইল্যান্ডে ব্যাম্বো স্যুট, মিয়ানমারে মায়াহেট, নেপালে থামা, আসামে বাঁহ গাজ/খবিচা, এবং ইন্দোনেশিয়ায় রিবাং নামে অভিহিত করা হয়।

বাঁশের কোঁড়লের পুষ্টিগুণ: বাঁশের কোঁড়লে পানির পরিমাণ ৮৮-৯৩%, প্লোট্রিনের পরিমাণ ১.৫-৪% ,চর্বির পরিমাণ ০.২৫-০.৯৫% , চিনির পরিমাণ ০.৭৮-৫.৮৬% ,সেলুলোজ ০.৬০-১.৩৪% এবং খনিজ পদার্থ ১.১% সহ পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনও রয়েছে।

বাঁশের কোঁড়ল বা খরিল কাচা খাওয়া উচিত নয়। এটা হাঁপানি রোগীদের সুস্থ থাকতে ভূমিকা রাখে; দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়; উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়; কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে; ডায়াবেটিস রোগীরা বাঁশের কোঁড়ল খেলে উপকার পাবেন। এছাড়া তীব্র জ্বর,এমনকি মৃগী রোগের নিয়ন্ত্রণের বাঁশের গুণ অপরিসীম।

বাঁশের কোঁড়ল সাধারণত, চিংড়ি, মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, শুটকি, কচু শাক,পালংশাক, বিশেষ করে হাঁস দিয়ে রান্না করলে খুব মজাদার হয়।

হাঁস দিয়ে বাঁশ রান্নার প্রস্তুতপ্রণালী ও রেসিপি :
প্রথমে কোঁড়লের উপরের অংশ ফেলে দিয়ে বাঁশের ভিতরের নরম শ্বাসগুলো একটি বল কিংবা কড়াইয়ের ফুটন্ত পানিতে হাফ সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ হয়ে গেলে পছন্দমত পিস পিস করে কেটে টুকরো করে নিতে হবে।

উপকরণ # কোঁড়ল ১ কেজি, হাঁসের মাংস ৩০০/৪০০ গ্রাম, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, লাল মরিচ ১ চা চামচের ৩ ভাগের এক ভাগ, জিরা গুঁড়া-১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমত, হলুদ পরিমানমত, কাঁচা মরিচ ১০ পিচ, ধনে পাতা পরিমাণমত।

এরপর কড়াইয়ে এক কাপ পরিমাণ সয়াবিন তেল দিয়ে গরম হলে এর মধ্যে হাঁসের মাংস মাছ ছেড়ে দিয়ে কিচ্ছুক্ষণ নাড়াছাড়া করার পর এর মধ্যে পেয়াজ কুচি, রসুন কুচি, আদা কুচি আর জিরা গুড়া দিয়ে তেলের মধ্যে ভালোভাবে কষিয়ে অল্প আঁচে বাঁশের কোঁড়লগুলো ছেড়ে দিতে হবে। এরপর কতক্ষণ পর পর নাড়াছাড়া করে মসলা আর কোঁড়লের মধ্যে একটা সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। এরপর ভূনা হয়ে গেলে দেড় কাপ পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। এবার পানি কমে আসলে এর মধ্যে কয়েকটা কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা দিয়ে মাখা মাখা হয়ে আসলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd