
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসান অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে তাকে প্রথমে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে আটক করে মারধর ও হেনস্তা করা হয়েছে। পরে খুলশী থানায় নেওয়ার পর দ্বিতীয় দফা হেনস্তা করা হয়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে চিনতে পেরে ছেড়ে দেন বলে জানান ওসি।
শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশি তৎপরতা ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে।
নাঈম হাসান জানান, তিনি রাতে বিমানে করে চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নগরের লালখানবাজার মোড়ে নামেন। সেখানে নামার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
নাঈমের ভাষ্য, ‘আমি বিমানবন্দর থেকে সিএনজি নিয়ে লালখানবাজার মোড়ে নামি। নামার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন এসে চেক করার কথা বলে। আমি তাদের সহযোগিতা করছিলাম। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে আমাকে ধাক্কা দেয় এবং সিএনজিটি আটকে রাখে।’
তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে থাকা দুজন তখন তাদের আমার পরিচয় দেয়। কিন্তু তারা উল্টো বলে, “তুই আসামি, তুই চুপ থাক।” এরপর আমাকে লাথি মেরে গাড়িতে তোলে এবং থানায় নিয়ে যায়।’
জাতীয় দলের এই স্পিনার দাবি করেন, খুলশী থানায় নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং থানার ভেতরে তাকে আবারও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘থানায় আনার পর দ্বিতীয় দফা হেনস্তা করা হয়। ওসির সামনেও আমাকে নাজেহাল করা হয়েছে। কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমি তখন নিজে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই। এরপরও তারা গুরুত্ব দেয়নি।’
নাঈমের দাবি, একপর্যায়ে তার পরিচিতজন ও বিভিন্ন মহল থেকে থানার ওসির কাছে ফোন যেতে শুরু করে। তখন পুলিশ সদস্যরা ভুল বুঝতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘যখন ওসির মোবাইলে বিভিন্নজন ফোন দেওয়া শুরু করে, তখন তিনি বলেন যে ভুল হয়ে গেছে। পরে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
ঘটনার সময় নাঈম হাসানের সঙ্গে থাকা দুজন প্রত্যক্ষদর্শীও দাবি করেছেন, পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি। তারা বলেন, শুরু থেকেই নাঈমকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে নিয়ে আচরণ করা হয়েছে।
তবে তবে ঘটনার বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি আমার দেশকে বলেন, একটি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ডিউটিরত কর্মকর্তা এসআই শফিক নাঈম হাসানকে থানায় নিয়ে আসেন। এসআই শফিককে তথ্যটি দিয়েছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার। তথ্য ছিল চোরাচালান সরবরাহসংক্রান্ত। তবে আমাকে না জানিয়েই তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
ওসি বলেন, থানায় আনার পর আমি তাকে চিনতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে নগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) থানায় আসেন। তিনি প্রাথমিক তদন্ত করে এসআই শফিকের ভুল হয়েছে বলে প্রমাণ পান। এরপর তাকে ক্লোজ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে নাঈম হাসানের ব্যাগও তল্লাশি করা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের অবৈধ বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত পারফর্ম করে আসছেন তিনি। তার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান