জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বাবা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মা খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দু’জনের কবর জিয়ারত করেন এবং দোয়া করেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাবা-মায়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান সরকারপ্রধান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। প্রথম দিন শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পাল্টে যায় রাষ্ট্রক্ষমতার সমীকরণ, নতুন মোড় নেয় দেশের রাজনীতি।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও তিনি দেশ স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন।
Ziaur_Rahmanইতিহাসের বিবরণ অনুযায়ী, ওই বছরের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পর সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনাসদস্যদের নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটান। এ সময় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি করা হয়।
পরে নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন খালেদ মোশাররফ। ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে গ্রেফতার, মন্ত্রিসভা বাতিল এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এ ঘটনায় সিপাহিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। সিপাহি ও জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন সহযোগীসহ নিহত হন খালেদ মোশাররফ। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান