
প্রথম নির্বাচনে চমক দেখিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিবিদ সি. জোসেফ বিজয়। সবার কাছে তিনি থালাপাতি বিজয় নামেই পরিচিত। তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা দূরে। ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সংখ্যার সমীকরণ মিলিয়ে কি সরকার গঠন করতে পারবেন বিজয়?
ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা ২০০৬ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় সংখ্যালঘু ডিএমকে সরকার বাইরের সমর্থন নিয়েই টিকে ছিল। এমন পরিস্থিতি ডিএমকে জোটের ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেস নির্বাচন-পূর্ব সময়ে টিভিকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে ডিএমকের কাছ থেকে বেশি আসন আদায় করেছিল যা জোটের ভেতরের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়।
টিভিকের জন্য আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (পিএমকে)-র সমর্থন, যাদের হাতে রয়েছে পাঁচটি আসন। তবে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-র সঙ্গে সরাসরি সমঝোতার সম্ভাবনা কম, কারণ তারা বিজেপি’র মিত্র, যাদের বিজয় তার আদর্শগত প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।অন্যদিকে, টিভিকের মাদুরাভয়াল আসনের প্রার্থী রেভান্থ চরণ, যিনি রাজ্যের অন্যতম কনিষ্ঠ বিধায়ক হতে যাচ্ছেন। সরকারের গঠন নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোনও ভয় নেই। আমরা সরকার গঠন করব। জোট বা সমর্থন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব নেবে বলেও জানান তিনি। শিগগিরই সরকার গঠন ও সংশ্লিষ্ট তারিখ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে টিভিকের ঐতিহাসিক অভিষেক। নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথমবার অংশ নিয়েই বিজয় বড় সাফল্য পেয়েছেন এবং তার দল একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি নিজেও পেরাম্বুর ও ত্রিচি ইস্ট দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চেন্নাইয়েও টিভিকে বড় সাফল্য দেখিয়েছে, যেখানে ১৬টির মধ্যে ১৪টি আসন তারা জিতেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান