রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউসসংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে হয়ে গেছে। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি এসেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সুরমা নদীর পাড়ের নান্দনিক ফোয়ারায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ফোয়ারায় পানি দেখে সুরমা নদীর পাড়ে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরাও আশ্চর্য হয়েছেন।
সিলেট সার্কিট হাউসের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা বার্তা টুয়েন্টিফোরের সিলেট প্রতিনিধি মশাহিদ আলী বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই সুরমা নদীর পাড়ে আসি। কিন্তু গত ১০ বছরের মধ্যে এই পানির ফোয়ারা কখনো চালু হতে দেখিনি। তাই আজ যখন ফোয়ারায় পানি দেখলাম, তখন আশ্চর্য হয়েছি।’
জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদীঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় সুরমা নদীর তীরে এই উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হয়। ওই সময় থেকেই সুরমা নদীর পাড় সিলেটবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উদ্বোধনের পর এম সাইফুর রহমান সাহেব সার্কিট হাউসে একটি সভাও করেছিলেন। সেই সভায় আমিও ছিলাম। সুরমা নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রধান উপাদান ছিল পানির ফোয়ারা। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এলে কিছু সময়ের জন্য ফোয়ারাটি চালু করা হতো।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান