সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দুর্গম হাওরে অবস্থিত আন্তপুর নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্ষায় এই বিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয় সাঁতার কেটে। নেই কোন নৌকার ব্যবস্থা।
শনিবার এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি নৌকা পেল।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এসএসসি ৮৮ ব্যাচের কয়েকজন বন্ধু এখানে অর্থায়ন করেন। তারা হলেন জাফর সাদেক শাকিল, ফয়সাল মহসিন, সাম্মাক রেজা চৌধুরী তাকিম মামনুন আহমেদ, সামসুদ্দীন আহমেদ বাবলু। শনিবার দুপুর ২ টায় আন্তরপুর নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তারা নৌক টি তুলে দেন।
তখন উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার খানম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ভুমি দাতা মোঃ আব্দুস সাত্তার, আলী উসমান বাদল, জাফর সাদেক শাকিল, ফয়সাল মহসিন, সাম্মাক রেজা চৌধুরী তাকিম, সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার খানম বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে আসে। এতে বর্ষায় উপস্থিতি কমে যায়। নৌকাটি পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। উপস্থিতিও বাড়বে।
নৌকাটি হস্তান্তরকালে জাফর সাদেক বলেন, বাচ্চাদের দুর্ভোগের কথা শুনে আমার এগিয়ে এসেছি। আরো অনেক স্কুলে এমন সমস্যা আছে। আশাকরি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবেন।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা জানান সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় অন্তত এক হাজার গ্রামে বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার ও ঝরে পড়ার হার বেশি।
হাওরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তিনি সারাদেশে বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য যে দুরত্ব বিবেচনা করা হয় হাওর অঞ্চলের জন্য সেই শর্ত শিথিল করার দাবি জানান। তিনি শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান