ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে সিলেটবাসী। কখন আসছে আর কখন যাচ্ছে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। শ্রাবণের অসহনীয় গরমে জনজীবনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে, কেউ জানেনা। এমনকি বিতরণ শাখার কর্তারাও না। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের অবস্থাও ভয়াবহ রকমের খারাপ।
বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই গরমে এমন দুরবস্থা অবসানের তেমন কোনো সুযোগই তারা দেখছেন না। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের অভাবে সিলেট বিভাগের অন্তত ৩টি উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এ অবস্থা বিরাজ করছে।
গত রবি ও সোমবার সিলেট মহানগরীর অবস্থা ছিল ভয়াবহ রকমের খারাপ। বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার না বলে বলতে হবে বারবার বিদ্যুৎ যাতায়াতের মধ্যে ছিল।
রিজন (২৩) নামে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী থাকেন নগরীর ইলেক্ট্রি সাপ্লাই রোডে। তার অভিযোগ, একবার কারেন্ট যায়, কয়েক ঘন্টা পর ফিওে, কিন্তু আধঘন্টাও থাকেনা। যায়তো যায়ই। আর ফিরেনা।
একই অবস্থা নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার। বারবার আসছে যাচ্ছে। থাকছে খুবই কম। এ কারণে ব্যবসায়ী চাকরিজীবীরা রীতিমতো অতিষ্ঠ। এহিয়া আহমদ (৩৩) নামের একজন চাকরিজীবী বললেন, না থাকলে এক জুইত আছিল। ই কিতা অবস্থা? অউ যায় তে আর আয়না।
জানা গেছে, সিলেটে রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় পিকআওয়ারে চাহিদা ছিল ১৫৫ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল ১২০ মেগাওয়াট। তবে ৩৫ মেগাওয়াট ঘাটতির এই হিসাবের সঙ্গে বিদ্যুৎ থাকা না থাকার যে বাস্তবতা, তার তেমন মিল পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি জানান, আমরা যা পাচ্ছি তাই বিতরণ করছি। কবে এর অবসান হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাব তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
এদিকে পিকআওয়ারে সিলেট পিডিবির অধিনস্ত সিলেট সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার মিলিয়ে পিডিবির মোট চাহিদা ২৫২ মেগাওয়াট। রবিবার সরবরাহ ছিল ১৯৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৫৩ মেগাওয়াট।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন। তিনি জানান, জানিনা কোন কারণে সরবরাহ কম। তবে আমরা যা পাচ্ছি, তা সঠিকভাবে সুষমহারে বন্টন করছি।
তার দাবি, রবিবারের চেয়ে সোমবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তার এই দাবির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছেনা। অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
শুধু পিডিবিই নয়, সিলেট পল্লী বিদ্যুতের অবস্থাও ভয়াবহ পর্যায়ে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের দাবি, বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে।
সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর জেনালের ম্যানেজার পংকজ চৌধুরী জানান, পিকআওয়ারে তাদের চাহিদা ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল মাত্র ২৩ মেগাওয়াট। এতেই বুঝা যায়, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটবাসী কি ভয়াবহ বৈদ্যুতিক দুর্যোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধিনস্ত গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার বিশ্বনাথ বালাগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোর অবস্থাও একই। তবে জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রশিদ আছেন তার নিজের মতো করে। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনে ব্যবস্থা নিবেন কি, তিনি সাংবাদিকদের কলই রিসিভ করার ধার ধারছেন না। এমনকি হোয়াটস অ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও তার সাঁড়া মিলেনা।
এদিকে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, সিলেট বিভাগের অন্তত ৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে ফেঞ্চুগঞ্জের একটি, বিবিয়ানার একটি ও শাহজিবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কারণ নিশ্চিতভাবে জানাতে না পারলেও সূত্রটির ধারণা হয়ত গ্যাস সংকটের কারণে এটি হতে পারে। তবে কবে নাগাদ কেন্দ্রগুলো সচল হতে পারে তাও জানাতে পারেনি সূত্রটি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ সারওয়ার খান