ঈদ উপলক্ষে জমজমাট সিলেটের বাজার। এর মধ্যেই গত কয়েকদিন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাব-৯ ও জেলা প্রশাসনের অভিযান চলে বিভিন্ন বাজার, শপিং মলে। সেখানে উঠে এসেছে প্রতারণার নানান চিত্র।
মূলত ঈদকে সামনে রেখে সিলেটজুড়ে প্রতারণা আর ভেজালের ফাঁদ পেতে রেখেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। অফারের নামে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে নামিদামি ব্র্যান্ডশপগুলো। বিদেশি দাবি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন দেশি পোশাক। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ট্যাগ পরিবর্তন করে বাড়িয়ে দিয়েছেন পোশাকের দাম।
এ ছাড়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও বাজারজাত করছে ভেজাল পণ্য। এমনই চিত্র উঠে এসেছে অভিযানে। প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করলেও থামছে না প্রতারকদের দৌরাত্ম্য। ফলে ঈদবাজারে সিলেটের মানুষ আটকে আছেন প্রতারণা ও ভেজালের ফাঁদে।
ঈদ এলেই সিলেট নগরজুড়ে পোশাকের দোকানগুলোতে চলে মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি। ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় অফার দিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করেন ক্রেতা আকর্ষণের। নামিদামি ব্র্যান্ডশপ থেকে শুরু করে ছোটখাটো দোকানগুলোও অবলম্বন করে একই পন্থা। তবে গত ৮ মার্চ থেকে কাপড়ের দোকানগুলোতে অভিযানে নেমে রীতিমতো হতবাক ভ্রাম্যমাণ আদালত। ব্যবসায়ীদের কারসাজি দেখে অভিযানকারীরাই হয়ে যান হতভম্ব।
অভিযানকালে ধরা পড়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট ৫০ শতাংশ অফারের লোভ দেখিয়ে ছাড় দিচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি পণ্যে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডশপ বিদেশি পোশাকের নামে দেশি কাপড় গছিয়ে দিয়ে কাটছে ক্রেতাদের পকেট। ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৫-৭ গুণ বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে কথিত এসব বিদেশি পোশাক। কোনো কোনো শোরুমে বিদেশি ব্র্যান্ডের লোগো নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে কাপড়। কেউ কেউ আবার ট্যাগ পরিবর্তন করে বাড়িয়ে দিয়েছেন পোশাকের দাম।
প্রতারণার অভিযোগে ৮ মার্চ নগরীর ব্র্যান্ডশপ এলাকা হিসেবে পরিচিত কুমারপাড়ার ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ওই দিন যেসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হয় সেগুলো হলো- বার্টন, ইজি, ক্লাবহাউস, মিলান, হিদায়াহ ও ফ্রিল্যান্ড।
এ ছাড়া ১০ মার্চ নগরীর জিন্দাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্রাইটনেস ও ওয়েস্টার্নবয় নামক দুটি ব্র্যান্ডশপকে জরিমানা করা হয়। বিদেশি দাবি করে বিক্রি করা পোশাকের আমদানির কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার ও র্যাবের যৌথ আরেকটি অভিযানে বন্দরবাজারের দুটি প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হয়।
এর আগে সিলেট গোটাটিকর বিসিক শিল্প নগরীতে অভিযান চালিয়ে মাশরাফি নামক একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মিষ্টির কারখানা থেকে মিষ্টির রস সংগ্রহ করে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছিল।
এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকার পরিবেশ, ভেজাল ও কেমিক্যাল মিশ্রিত ইফতার সামগ্রী বিক্রির দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভেজাল ও প্রতারণারোধে র্যাবের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।