সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার ফাঁসি ঢাকা কারাগারে নয়, বরং জনসমক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কার্যকর করতে হবে। দেশের মানুষ সেই প্রস্ততি নিয়ে রাখছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কর্নেল অলি বলেন, আপনাকে শুধু বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হলে চলবে না, আপনাকে হতে হবে সারা দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী। চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার করুন। তিনি আরও যোগ করেন, একই ব্যক্তির হাতে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধানের পদ থাকা উচিত নয়—এ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে এলডিপি সভাপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমি জামায়াতের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছি। তাদের মধ্যে যে শৃঙ্খলা ও ঐক্য রয়েছে, তা অনন্য।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যদি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস মামুনুল হক—এই তিন নেতা এক হন, তবে এক সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে পড়বে। তারা একজোট হয়ে ঢাকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দিলে সরকারের পালানোর কোনো পথ থাকবে না।
বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, দেশে এখনো দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, বরং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে ‘এক দফা’ আন্দোলন শুরু হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। এছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সিলেটের এই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়েই ১১ দলীয় জোটের দেশব্যাপী ঘোষিত বিভাগীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটল।
https://shorturl.fm/fAB7i