মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) ফজলুল হক খান সাহেদ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলালপুর আত্তর খান হাফিজিয়া মাদরাসায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। এসময় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল ইসলাহ নেতা আতিকুর রহমান আখই, পৌর আল-ইসলাহ’র সাবেক সভাপতি কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত ইশতেহারে ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, ইতোপূর্বে কুলাউড়াবাসী আমাকে দুইবার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান হিসেবে সেবার সুযোগ দিয়েছেন। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে কুলাউড়াবাসীর সমর্থন নিয়ে আগামী পাঁচ বছর কুলাউড়াবাসীর উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় সংসদে ভূমিকা রাখার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কুলাউড়ার উন্নয়ন হতে হবে ইনসাফ, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায় ও বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন ছাড়া মানুষের আস্থা অর্জন এবং টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই নির্বাচনী ইশতেহার নিছক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়; এটি কুলাউড়ার প্রতিটি মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। জনগণের অংশগ্রহণ ও নিয়মিত জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ কুলাউড়া গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কুলাউড়া শহরের যানজট নিরসন, বাইপাস সড়ক নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। চা বাগান, পাহাড় ও হাকালুকি হাওর কেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন খাতে শক্তিশালী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতিমখানা ও কওমি মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। খাসিয়া, মনিপুরীসহ চা-বাগানের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর ‘এমপি-জনতা সংলাপ’ শিরোনামে সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এতে জনগণ তাদের দাবি দাওয়া জানাতে এবং বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে পারবেন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি রেলস্টেশন আধুনিকায়ন, প্রতিটি ট্রেনে কুলাউড়ার জন্য আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্থানীয় লোকবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিতে উপজেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। প্রবাসে ইন্তেকালকারী রেমিটেন্স যোদ্ধার পরিবারকে সংসদ সদস্যের বিশেষ তহবিল থেকে সহায়তা, প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং নানা বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলবো।
কুলাউড়ায় স্টেডিয়াম নির্মাণসহ সকল খেলার মাঠ উন্নয়নের আওতায় আসবে। তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুসারে আইসিটিসহ বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইনসাফ, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ কুলাউড়া গড়ার লক্ষ্যে তাঁর পক্ষে সকলকে শামিল হওয়ার আহবান জানান।