মৌলভীবাজারে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিশেষ অভিযানে চুরির সরঞ্জাম ও দুটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে এক দুর্ধর্ষ চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মিল্টনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৭টি চুরির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ২ জানুয়ারি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বড়হাট এলাকার ‘রাজা কমপ্লেক্স’-এর গ্যারেজ থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের হলে ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকা থেকে মিল্টন সরকারকে গ্রেফতারকরা হয়। গ্রেফতারকৃত মিল্টন নরসিংদী জেলার পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার মৃত হারাধন সরকারের ছেলে।
গ্রেপ্তার মিল্টনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার সরকারবাজার এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে— ১৫০ সিসি’র দুটি পালসার মোটরসাইকেল, চুরির কাজে ব্যবহৃত ২১টি মাস্টার কি (চাবি), ৬টি হেলমেট, ৫টি লুকিং গ্লাস, ১৫টি তালা, ৯টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি বড় রেঞ্জ, ১৫টি ঢাল, প্লায়ার্স, ওয়্যার কাটার এবং মোটরসাইকেলের রং পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত ‘রেইনবো’ স্প্রে ক্যান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মিল্টন একজন পেশাদার ও আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা। সে দীর্ঘ দিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। চুরির পর মোটরসাইকেলের রং ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে সে বিক্রি করে দিত। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় বর্তমানে ২৭টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেল আবুল খায়ের, সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এবং ডিবির ওসি সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য।