• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পরীক্ষা মিস করে সিলেট টেস্ট দেখতে গ্যালারিতে ভক্তরা শামসুন্নাহার যেভাবে হয়ে উঠলেন পরীমণি আজকের শিশু-কিশোররাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী মালেয়শিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাবে ডিসেম্বরে: শ্রমমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট ১২৭২ টিলাগড় থেকে ২০ লাখ টাকার ভারতীয় কম্বলসহ কাভার্ডভ্যান জব্দ, আটক ১ আমরা এখনও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি: বাহুবলে ববি হাজ্জাজ ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি সিলেটে ধারালো সুইস গিয়ার চাকুসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমির পদে পুনর্নির্বাচিত হাবিব-ফখরুল ট্রিপল মার্ডার: মানিকগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন ৮ প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ আখ্যা দিয়ে পদ হারালেন সচিব সিলেটসহ সারাদেশের জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা গ্যাস সংকটের শঙ্কা ও এলপিজির বাড়তি দামে বিপাকে গ্রাহকরা চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: এমপি শওকতুল ইসলাম মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল দেখে যে বার্তা দিলেন মুজতবা খামেনি কোহলির রেকর্ডময় ম্যাচে ভারতের জয় নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনযাপন অসম্ভব পোশাক শিল্পে সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনে মহাসড়কে বাস সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

আমরা এখনও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি: বাহুবলে ববি হাজ্জাজ

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

42

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়,বরং প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে কী শিখছে, তার মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি কতটা মজবুত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিখনফল, পুষ্টি, শিক্ষক উন্নয়ন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার  হবিগঞ্জের বাহুবলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া সম্মানিত অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ও যথাযথ শিক্ষা দিতে পারছি? আমার মনে হয়, এখনো আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন না কিংবা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে কীভাবে সেগুলো দূর করা যায়। তিনি শিক্ষকদের তাঁদের বিদ্যালয়ের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিকে যাওয়ার পথে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখা এবং নিয়মিত শিখন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পুষ্টিমান বিবেচনায় রেখে খাবারের মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে খাবার সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে যথাযথ পরীক্ষা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা অনিয়মের কারণে যেন নতুন অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিদ্যালয়কে সুরক্ষিত ও কার্যকর রাখতে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রধান শিক্ষকদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মসজিদ ও মন্দির কমিটি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রতি স্থানীয় মানুষের মালিকানাবোধ তৈরি হলে অবকাঠামো রক্ষা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সহজ হবে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মা সমিতির কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মায়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত মায়েরা নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিম সিদ্ধ, সংরক্ষণ ও বিদ্যালয়ে সরবরাহের কাজে অংশ নিতে পারেন। এতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের অংশগ্রহণও বাড়বে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের মতামত ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আহ্বান করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী ও প্রাথমিক শিক্ষার সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক এ.কে.এম সাইফুল হাসান, বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

সভায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেসি উড, বাহুবল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয় দুটিতে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ ও খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ এবং পরিবেশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd