সিলেটের নির্বাচনি আসনগুলোতে একক প্রার্থী ঘোষণা করে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। কর্মীরা যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। নানা কৌশলে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এর বিপরীতে বিএনপি এখনো প্রার্থীই ঘোষণা করতে পারেনি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নযুদ্ধে লিপ্ত। দলের ভেতরে নানা গুঞ্জনে বিভ্রান্ত কর্মীরা।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে উপজেলা জামাতের নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে ব্যাপকভাবে সভা-সমাবেশ করছেন। খেলাধুলা, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা আয়োজনে যোগ দিয়েও তাঁরা কুশল বিনিময় করছেন। এমন অবস্থায় আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করায় দলটি ‘নির্বাচনী মাঠে’ নেমেছে।
সিলেট-৪(জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট -কোম্পানীগঞ্জ ) আসনের প্রার্থী ঘোষণা করায় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের নেতারা বলছেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে তারা আরো বেশি কাজ করবেন এবং নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশা করছেন।
তবে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া প্রতিদ্বন্বীতাকে আরও তীব্র করবে, আবার অনেকে বলছেন, এতে নির্বাচনের সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন পরে জামায়াতের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরা রাজনৈতিক মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করবে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এতে অন্য দলের ভোটের সমীকরণ প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সামগ্রিক প্রতিদ্ব›িদ্বতাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে।
স্হানীয় এক নেতা বলেন , আমাদের প্রার্থী উচ্চ শিক্ষিত সৎ মানুষ, ক্লিন ইমেজের মানুষ, যার ব্যাকগ্রান্ডে কোন অপবাদ নাই। গত ৫ই আগষ্টের পর জামাতের যে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমরা পুরোপুরি আশাবাদি। অন্য প্রার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন বির্তক আছে। এ দিক থেকে আমাদের প্রার্থী অনেকগুন ভাল। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্ব চান তরুণ প্রজন্ম।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির হুড়োহুড়ি সবচেয়ে বেশি। মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর এই আসনে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থিতার গুঞ্জন উঠলেও তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি সিলেট-১ আসনেই নির্বাচন করতে চান। ফলে সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাকিম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান, সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট জেবুন্নাহার সেলিম এবং ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান সেলিম মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। বিএনপির একঝাঁক প্রার্থী ও ভোটের মাঠে জামায়াতের জয়নাল অনেকটা আতঙ্ক।