ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার ছিটকে প্রায় ৫০ ফুট নিচের জলাশয়ে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের অরক্ষিত একটি রেলক্রসিংয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- সিটি ব্যাংক ঢাকা শ্যামলী শাখার কর্মকর্তা সঞ্জীব ঘোষ, ঢাকার ব্যবসায়ী মেহেদী আল-আমিন, ভাঙ্গার ব্যবসায়ী আলম মিয়া ও প্রাইভেটকারচালক রুবেল হোসেন।
স্থানীয় ও রেল স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে খুলনাগামী ‘নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দুপুর ২টার দিকে নওপাড়া গ্রাম অতিক্রম করছিল। এসময় একটি প্রাইভেটকার রেললাইন পার হতে গেলে ট্রেনের প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে। ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে চারজন যাত্রী আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয় জনতা ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত ব্যাংক কর্মকর্তা সঞ্জীব ঘোষ জানান, তারা ঢাকা থেকে ভাঙ্গার তুজারপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসে একটি জমির ব্যাপারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নওয়াপাড়া গ্রামের মধ্যে রেলপথ ক্রসিং করতে গেলে অসাবধানতাবশত হঠাৎ একটি ট্রেন তাদের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এরপরই জ্ঞান হারান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দুজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তিনিসহ তার সঙ্গে ব্যবসায়ী বন্ধু প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তবে অল্পতেই প্রাণে বেঁচে গেছেন তারা। তিনি ওই এলাকায় দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
নওপাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, এ রেল পয়েন্টে প্রায়ই বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ পথ দিয়ে ভাঙ্গা থেকে সদরপুর উপজেলায় যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। আটরশি জাকের মঞ্জিলের ওরসে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীসহ প্রায় পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। এ ঘটনাস্থলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা রেলস্টেশন মাস্টার স্বপন সরকার জানান, দুপুর ২টার দিকে ভাঙ্গা থেকে খুলনাগামী নকশী কাঁথা ট্রেনের ধাক্কা লাগে প্রাইভেটকারে। এতে প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন। বিষয়টি আমি রেল পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।