সাড়ে সাঁইত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুড়ছে সিলেট। অসহনীয় গরমে নগরজীবন যেমন অতিষ্ঠ, ঠিক তেমনি অতিষ্ঠ গ্রামীন জীবনও। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে বটে, তবে বাস্তবে তা আর ঝরছেনা। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক আর নানা রোগে আক্রান্তরা আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। আর এই ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বিদ্যুতের খেমটা নৃত্য।
এমন গরমে স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পথচারী- সবাই আছেন খুব অস্বস্তীতে। আবার অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে পানিশূণ্যতায়।
বুধবার সিলেট অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস! আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মধ্যপ্রাচ্য ফেরত কারো কারো মতে, দেশ সত্যিই বুঝি মরুকরণ প্রক্রিয়ার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
নইলে এই শ্রাবণ মাসে কেউ কি কখনো বৃষ্টির জন্য এমন হা-পিত্যেশ করতে শুনেছেন কখনো? এবার তাই করতে হচ্ছে। সিলেটে বলতে গেলে এখনো এবারের বর্ষায় সে অর্থে বৃষ্টি ঝরছেই না।
অথচ আষঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। এমনদিনে বিরামহীন বৃষ্টিপাতে জনজীবন অচল হয়ে পড়ার কথা, যাকে বলে মুষলধারে বৃষ্টি। কিন্তু এবার তেমনটি হয়নি এখনো। অথচ প্রতিদিনই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েই যাচ্ছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবারও তাদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও আবার বর্জসহ দমকা হাওয়াও বয়ে যাওয়ার কথা। কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টি।
অথচ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৩ মিলিমিটার!
এ অবস্থায় সিলেটবাসীর জীবন আরও বেশী কঠিন করে তুলেছে বিদ্যুতের খেমটা নৃত্য। দিনে অন্তত ৫/৬ বার যাচ্ছে। যখন যাচ্ছে তখন আর ফেরার কথা যেনো মনেই থাকেনা। তো ফিরছে, কখনো ৩০ মিনিট, কখনোবা ঘন্টা, দেড়ঘন্টা এমনকি কখনো কখনো দুই ঘন্টাও। এতো, সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার চিত্র।
গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। বিদ্যুৎ থাকে যাতায়াতের মধ্যে। তাও আবার লম্বা লম্বা বিরতি দিয়ে। গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ- ইত্যাদি উপজেলায় খোঁজ নিয়ে তেমন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।তবে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকারই করতে চাননা। তারা বলেন, এগুলো মেরামত কাজের জন্য যাচ্ছে আর আসছে। কয়েকদিন আগে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর প্রকৌশলী শামছ-ই আরেফিন এমন তথ্যই জানিয়েছিলেন।
এ অবস্থায় বুধবার রাতে যে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জন্য অনানুষ্ঠানিক প্রার্থনা হবে- তা বলাই বাহুল্য।