সিলেটে স্কলার্সহোমের ছাত্র আজমান আহমেদ দানিয়ালের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসছেন ওই স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দানিয়ালের আত্মহত্যার জন্য শিক্ষকদের দায়ি করছেন। বলছেন, তাদের প্ররোচনায় দানিয়াল ‘আত্মহত্যা’ পথ বেচে নেয়। তাঁরা স্কলার্সহোমের ভাইস প্রিন্সিপাল (ভিপি) আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং শ্রেণি শিক্ষক শামিম হোসেন ও সিনিয়র শিক্ষক মিস তাইবার অপসারণ দাবি করেন।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দানিয়ালের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে স্কলার্সহোমে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
এর আগে সকাল থেকেই ছাত্র-অভিভাবকেরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজমানকে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়েছিল, যার ফলে সে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা আজমানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের পাশাপাশি বেশ কিছু দাবি তুলেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। ভিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগ। শ্রেণি শিক্ষক শামিম হোসেন ও সিনিয়র শিক্ষক মিস তাইবার অপসারণ।
ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা না করা।মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধাগ্রস্ত হবে না। কলেজের নোটিশ বোর্ডে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ। অভিভাবকের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধ ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নীতি গ্রহণ। পরীক্ষার রুটিন তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশ বন্ধ করা। ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
প্রথমদিন অবস্থান শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা, তবে সোমবার পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে আসার ঘোষণা দেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ‘শোক প্রকাশের আড়ালে প্রতিবাদ দমাতে দেওয়া যাবে না। আমরা আজমানের ন্যায়বিচার চাই।’