স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে বয়স, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা দীর্ঘ পথ, কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রিয়তমা স্ত্রীকে বাঁচাতে টানা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ভ্যানগাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে।
বৃদ্ধের স্ত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নিকটবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আর্থিক সংকট ও যানবাহনের অভাবে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে বৃদ্ধ নিজেই ভ্যানগাড়িতে করে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথজুড়ে ছিল রোদ, ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা—তবু স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও থামেননি তিনি।
স্থানীয়দের মতে, বৃদ্ধ দম্পতি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও পারস্পরিক নির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তারা। স্ত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও বৃদ্ধের চোখে ছিল দৃঢ়তা,যত কষ্টই হোক, বাঁচাতে হবে, এমন মনোভাবেই তিনি যাত্রা শুরু করেন।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার একপর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে কিছু মানবিক মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে আসেন। তারা খাবার, পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন এবং শেষপর্যন্ত বৃদ্ধ দম্পতিকে হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বৃদ্ধের এই সাহসী সিদ্ধান্তই হয়তো তার স্ত্রীর জীবন রক্ষার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, আধুনিক জীবনের কোলাহলে হারিয়ে যাওয়া নিখাদ ভালোবাসার এক জীবন্ত উদাহরণ এই বৃদ্ধ দম্পতি। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জরুরি পরিবহনের অভাবে কেন একজন ৭৫ বছরের বৃদ্ধকে এমন ঝুঁকি নিতে হলো?
সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে, এই ঘটনা প্রমাণ করে ভালোবাসা বয়স মানে না, দূরত্ব মানে না, কষ্টও মানে না। প্রিয় মানুষকে বাঁচাতে হলে একজন মানুষ কতটা অদম্য হতে পারেন, সেই নিদর্শন হয়ে থাকবেন এই বৃদ্ধ।