• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পয়েন্ট ভাগাভাগিতে শেষ কানাডা-বসনিয়া লড়াই নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ, অনুপাত ১:৯ ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় সিউক এর নতুন চেয়ারম্যান কয়েস লোদী বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন জেনিফার? তিন লাল কার্ডের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভসূচনা এবারের বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত, উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন দুধ দিয়ে গোসল সেরে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক সীমিত সম্পদের মধ্যে দেশের সবাইকে স্বস্তি দিতে এ বাজেট: অর্থমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ হরমুজে দুই জাহাজে ইরানের হামলা বারবার হাঁচি এলে যা করবেন মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ মরক্কো ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার, ব্রাজিল শিবিরে আশার আলো মেসির গোল, বড় জয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের ঋণ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে

এবারের বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত, উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ

Reporter Name / ৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

20

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদ প্রাঙ্গণে বাজেট নিয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই বাজেট অনেকটা উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ আপনি দেখবেন যে এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা তারা ব্যয় করবে, এবং আয়ের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা বাস্তবতাবিবর্জিত। এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা বর্তমান প্রশাসন ও করকাঠামোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ফলে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা যদি রাজস্ব হিসেবে আদায় করতে না পারে, স্বাভাবিকভাবেই সরকার তা পারবে না, তাহলে ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারকে ব্যাংকগুলো থেকে ও বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে।

ঋণ নির্ভর বাজেটের কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘সরকার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেটও হবে। একে ঋণনির্ভর বাজেটও বলা যেতে পারে। ফলে সরকার যখন ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেবে, এটা দুর্বল ব্যাংকিং খাতের ওপর আরও ঋণের চাপ সৃষ্টি করবে। এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে বেসরকারি খাত সহজে ঋণ পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

বাজেট বক্তৃতায় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা নেই জানিয়ে নাহিদ বলেন, আরেকটি বিষয় দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে আপনি বুঝবেন, তিনি গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন, তাঁর কথা শুনলে মনে হবে অর্থনীতিতে অনেক বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কোনো আলাপ করেননি। ঋণখেলাপি লুটেরা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, পাচারকৃত অর্থ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনবে—সে বিষয়ে আমরা তাঁর বক্তব্যে কিছু পাইনি। ব্যাংকিং খাত কীভাবে তারা সংস্কার করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে, সে বিষয়েও তার বক্তব্যে কোনো কিছুই আমরা পাইনি।

লুটেরাদের বিচার না করে ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল যে তারা আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেবে না, রাজনৈতিক বিবেচনাও করবে না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে আমরা সর্বপ্রথম রাজনৈতিক ও বিতর্কিত নিয়োগ দেখেছি, দলীয় নিয়োগ দিতে দেখেছি। ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তার মানে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ছিল, আমানতকারীদের যে অনাস্থা ছিল, তা নতুন করে আবার শুরু হয়েছে।

সবাই সরকারের দিকে তাকিয়ে ছিল যে একটি আস্থার জায়গা তৈরি হবে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়নি। ইসলামী ব্যাংকের ওপর যদি আমানতকারীদের অনাস্থা তৈরি হয়, তাহলে সারা ব্যাংকিং খাতেই তার প্রভাব পড়বে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে; এবং সেটাই হচ্ছে।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোয় সরকারকে সাধুবাদ জানান নাহিদ ইসলাম। বলেন, আমাদের কিছুটা স্বস্তির জায়গা হচ্ছে যে শিক্ষাখাত, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের বরাদ্দ বেড়েছে। যেহেতু এই সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই কার্ডের রাজনীতি করে যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তারা বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে, যার ফলে মানুষ কিছুটা উপকৃত হবে বলে আমরা মনে করি। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি দ্রব্যে কর কমানো হয়েছে। তা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা কমে আসার কথা।

তবে কর ছাড়ের ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd