কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাঁর সঙ্গে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান ফটকে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে ফটকের সামনেই জামাতে আসরের নামাজ আদায় করেন নেতাকর্মীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমায় অংশ নিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান মুফতি ফয়জুল করীম। তবে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রশাসন শুধু তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেয়। তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী জোর করে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অল্প কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকের সামনেই জামাতে আসরের নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে, মুফতি ফয়জুল করীম কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ আদায় শেষে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন এবং পরে বিজয়-২৪ হলে স্থাপিত একটি ফার্স্ট এইড বক্সের উদ্বোধন করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা মহানগরের নেতা এনামুল হক মজুমদার বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, শুধু মুফতি ফয়জুল করীমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদেরই বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।