• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার আহ্বান রাষ্ট্রপ্রতির আগমনে রূপ বদলাচ্ছে সিলেট সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক: হেফাজতে ইসলাম মাধবপুরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ইউএনওর গাড়ির সংঘর্ষ,আহত ১ তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা সিলেট মহানগর ৩৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের জনশক্তি সমাবেশ শায়খে কাতিয়ার সাহেবজাদা মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আমিনীর দাফন সম্পন্ন ‘অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন’ ব্রিকস সম্মেলনে বার্তা শি জিনপিংয়ের দেশে লোডশেডিং বাড়ছে শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী : স্পিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফান্ডে নজর সরকারের, অব্যয়িত অর্থ নিতে চায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সিপিএলে মিরাজের আগুনে বোলিং হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৫৫ দুই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ নিয়ে দিল্লিতে পুতিন, কী আছে এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কনসার্ট বন্ধের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ইরান-সমর্থিত হুথিরা এগোচ্ছে ‘বিদ্যুৎ গতিতে’, বিস্মিত বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ প্রয়োজন নেই: ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ সিকৃবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন স্থগিত

বাংলাদেশে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের গোড়াপত্তন ও পতন

Reporter Name / ৭৪৬ Time View
Update : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

305

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার রক্তঝরা সময় অতিক্রান্ত হতে না হতেই শুরু হয় এক অদৃশ্য আগ্রাসন—যা চালানো হয় না কোনো ট্যাংক বা কামানের গর্জনে, বরং সংগীত, সিনেমা, ভাষা ও পোশাক-আচরণের মাধ্যমে। এই আগ্রাসনের নাম সাংস্কৃতিক আগ্রাসন—এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এর সবচেয়ে কৌশলী কারিগর ভারত।

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে, সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশে হিন্দি গান, বলিউড সিনেমা ও ভারতীয় টেলিভিশনের প্রবল ঢল নামে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’-এর মতো হিন্দু ধর্মীয় ধারাবাহিকের সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই নতুন সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশ। প্রথমে ক্যাসেট, পরে সিডি ও স্যাটেলাইট টিভির মাধ্যমে এই ঢেউ বিস্তার লাভ করে। অনেকে একে নিছক ‘বিনোদন’ মনে করলেও, এর গভীর প্রভাব ছিল সমাজ ও মননে।

এই আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রজন্ম। কিশোর-কিশোরীরা বলিউড তারকাদের নকল করে সাজতে শিখল—চুলের স্টাইল, পোশাক, এমনকি উচ্চারণেও। দেশীয় গান, নাটক, লোকসংস্কৃতি কোণঠাসা হয়ে পড়ল। এক ধরণের মানসিক উপনিবেশ গড়ে উঠল, যেখানে মানুষ ভিনদেশি রুচিকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করল।

নব্বইয়ের দশকে গণতন্ত্র ফিরে এলে, বিএনপি সরকারের সময়ে তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ ও সেক্যুলার ঘরানার মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রভাবকে আরও বেগবান করে তোলে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, নাটক ও টিভি চ্যানেলে ভারতীয় স্টাইল, ভাষা ও চিন্তাধারার উপস্থিতি ক্রমেই ঘনীভূত হতে থাকে। এই সময় শফিক রেহমান প্রমুখ ব্যক্তিত্বের ভূমিকা ছিল লক্ষণীয়—যাঁরা তরুণদের মাঝে পশ্চিমা ও বলিউডীয় ‘মুক্তচিন্তা’র নামে শৈথিল্য ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

২০০০-এর পর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ২০১০ সালের পর তো তা চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন মুক্তভাবে শুরু হয়। দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বলিউডের অর্ধনগ্ন নৃত্যনির্ভর ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য যেন দেশের সংস্কৃতির উপর বিষ ঢেলে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে হিন্দি ও ইংরেজি নগ্নতাপূর্ণ সিনেমা প্রদর্শনীকে ‘আধুনিকতা’র অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ‘দেশপ্রেম’, ‘জাতীয় সংস্কৃতি’, ‘বাংলা গান’—এসব শব্দ তখন শুধু দিবসপালনের বক্তৃতা বা রমরমা বিজ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তব জীবনে এদের কোন প্রভাব থাকত না।

ভারত খুব ভালো করেই জানত, বাংলাদেশের ভূখণ্ড নয়, চেতনা দখল করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরোধিতাকারীদের ‘রক্ষণশীল’, ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ ইত্যাদি তকমা দিয়ে সমাজচ্যুত করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু ইতিহাস কখনো থেমে থাকে না।

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই, ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা লাগে। বহু ক্ষেত্রেই তারা কূটনৈতিকভাবে পরাজিত হয়। পরের বছর ২০২৫ পাকিস্তানের সাথে ৩ দিনের যুদ্ধে আবার পরাস্ত হয় ভারত।

এক ঐতিহাসিক মোড় তৈরি হয়—যেখানে প্রমাণ হয়, “যে অন্যের সংস্কৃতি ধ্বংস করে, সে নিজেও একদিন ইতিহাসের ধাক্কায় টলে যায়।”

২০২৫ সালের বাংলাদেশ আর ১৯৮০ সালের বাংলাদেশ নয়। এখনকার তরুণ সমাজ আরও বেশি সচেতন। যারা ভারতীয় দালালির মাধ্যমে আগ্রাসন ছড়াতো, তারা এখন জনরোষে মুখ লুকিয়ে চলে। সামাজিক মাধ্যমে বিকল্প সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

তবুও, ভারত হয়তো আবারও সেই পুরনো পথেই ফিরতে চাইবে—কিশোর-তরুণদের মন জয় করতে চাইবে বলিউডের মোহময়ী গান আর প্রেমভিত্তিক গল্প দিয়ে। সেই আশির দশকের পুরনো কৌশল—উচ্ছিষ্ট দালালদের ব্যবহার করে নতুন মোড়কে পুরোনো এজেন্ডা সামনে আনার চেষ্টা চলবে।

কিন্তু বাস্তবতা এখন অনেকটা বদলে গেছে। কারণ এখন সবাই জানে, “সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মানে কেবল গান বা সিনেমা নয়—এটা মানে একটি জাতির আত্মা দখলের চেষ্টা।”

বাংলাদেশ এখন তার নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সাহিত্য, সংগীত, নাট্যচর্চা ও লোকসংস্কৃতিতে তরুণ প্রজন্ম নতুন জোয়ার এনেছে। তাই ভারতীয় এজেন্ডাকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের হয়তো আরও ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হবে—তাও যদি সুযোগ মেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd