বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে কুলাউড়ার ২৬টি চা-বাগান। এতে একদিকে যেমন চা-চারাগুলো মরে যাচ্ছে অন্য দিকে চা-বাগানের উৎপাদন কার্যক্রমে চরম ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। সূর্যের লিলাহীন তাপে ঝলসে যাচ্ছে চা-গাছ ও নার্সারির নতুন চারাগুলো। কৃত্রিমভাবে গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে চা-গাছের গোড়ায় দেওয়া হলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা কম ফলে অধিকাংশ চা-বাগানে ২০-৩০ শতাংশ গাছ খরায় পুড়ে গেছে। টানা ৫ মাস থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারনে বাগানের ভেতরের খাল- নালাগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। যার কারনে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে বাগানে। সেচ অথবা স্প্রে করে নতুন পুরাতন চা-গাছ বাঁচানো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাগান কতৃপক্ষ। মৌসুমের শুরতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা-বাগানে উৎপাদনে ধ্বস নেমেছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, কুলাউড়ায় ২৬টি চা-বাগানের মধ্যে সবকটি চা-বাগানের নতুন ও পুরাতন চা-গাছ দীর্ঘ খরার কবলে পড়ে পুড়ে গেছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চায়ের উৎপাদন দারুনভাবে ধ্বস নেমে এসেছে। বৃষ্টি নির্ভর চা-গাছের নতুন কোন কুঁড়ি বের হচ্ছে না। গতবছর ২০২৫ সালে বৃষ্টি পরিমাণ ছিলো ৯১.৬৭ ইঞ্চি। ২০২৬ সালে আর কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। সামনে আসছে চৈত্র মাস রোদের তেজ আরো বেড়ে যাবে তখন খরা হয়ে যাবে দীর্ঘস্থায়ী। সব মিলিয়ে চায়ের উৎপাদন অনেকাংশে কমে আসবে বলে বাগান কতৃপক্ষ জানিয়েছেন।
সিরাজনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামীম আহমদ চৌধুরী জানান, অন্যান্য বছর শীত মৌসুমে মাঝে-মধ্যে কিছু বৃষ্টিপাত হলেও এবার কোন বৃষ্টিপাত নেই। ফলে বাগানের চা-গাছগুলো খরায় মরে যাচ্ছে। তাছাড়া চা-গাছগুলোতে শ্রমিকরা (প্লাকিং) পাতা উত্তোলন করতে না পারায় উৎপাদনেও আমাদের বাগান ২ মাস পিছিয়ে গেছে। এখন আল্লাহর রহমত বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় আমরা আছি।
হাজীনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো: শহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রচন্ড খরায় নতুন (বাচ্চা) চারার পাশাপাশি বড় (রৌদ্র পেডি) চা-গাছগুলো মরে যাচ্ছে। তাছাড়া বাগানের চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্যে নেমে আসছে। আমরা কৃত্রিমভাবে পানি দিয়ে কিছু চা-গাছগুলোকে সতেজ রাখার চেষ্টা করছি তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। শীঘ্রই যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে বাগানগুলোকে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে।
গাজিপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ধর জানান, তাদের বাগানে ১৬ শত ৪৫ একর ভূমিতে চা ফলানো হয়েছে। দীর্ঘ খরায় ফলানো চায়ের ৩০% রোদে পুড়ে ঝলসে গেছে। গত বছর তারা ১১ লক্ষ ৭২ হাজার ৩ শত কেজি কালো চা উৎপাদন করেছেন। এবছর প্রচন্ড খরার কারনে উৎপাদনে ধ্বস নামবে। খরার পরে দেখা দেবে চা গাছে নানা রোগ বালাই। এতে তারা অনেকাংশে পিছিয়ে যাবো। ভাটা পড়বে চা-উৎপাদনে। এছাড়া ও পুরাতন চা গাছের অবস্থা আরো ভয়াবহ।
এব্যাপারে বাংলাদেশ চা গবেষনা ইনষ্টিটিউটি (বিটিআরআই) শ্রীমঙ্গলের পরিচালক ড. মো ইসমাইল হোসেন জানান, এ নিয়ে চতুর্থ দফায় মৌলভীবাজার অঞ্চলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা-বাগানে খরা দেখা দিয়েছে। এর আগেও বাগান কতৃপক্ষগুলোকে খরার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে সব বাগানগুলোতে যদি সেড ব্যবস্থাপনা এবং চারাগাছের স্টান্ডাড পোলিং ব্যবস্থা থাকতো তাহলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় যে খরা সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো সহজে মোকাবেলা করা যেতো।