শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মই হতে পারে সর্বোত্তম আদর্শ। মহানবী (সা.) শ্রমিকের পারিশ্রমিক যথাসময়ে পরিশোধ এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ২নং বার হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর আয়োজিত ‘সীরাত সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শ্রমজীবী মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি সম্ভব নয়। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের উচিত মহানবী (সা.)-এর সীরাত অনুসরণের মাধ্যমে জীবন পরিচালনার শপথ গ্রহণ করা।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুল হক।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. ফয়জুল হক বলেন, রাসূল (সা.)-এর সীরাতে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে অনন্য পথপ্রদর্শক। কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ড. নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ তারাই অনেক সময় অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হন। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসাইন এবং বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলওয়ার।
এছাড়াও সংগঠনের মহানগর ও বিভিন্ন থানা ইউনিটের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।