সিলেটের বিশ্বনাথে আবদুল মজিদ বকুল নামের এক ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
তবে এ ঘটনায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করেনি পুলিশ। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলার পৌর শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এ মারধরের ঘটে।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান শুক্রবার বিকেলে সিলেটটুডেকে বলেন, শুনেছি দু’পক্ষে মারামারি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
মারধরে আহত আবদুল মজিদ বকুল বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্ত শামীম আহমদ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি।
এই মারধরের কারণ নিয়ে দু ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে। একপক্ষ বলছেন, ফেসবুকের মন্তব্য নিয়ে বিরোধ। আর আরেকপক্ষের দাবি, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সূত্রপাত।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম ফেসবুকে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেন। এই পোস্টে কমেন্ট করায় তিনি ছাত্রদলের পৌর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুলের বাসায় গিয়ে তাকে পিটিয়েছেন। খবর পেয়ে আশপাশের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
তবে অভিযুক্ত শামীম আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, বকুল ও ছাত্রদলের আরেক নেতা সম্প্রতি কামরুল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মব করে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যান। বুধবার তারা আবার কামরুলের কাছে টাকা দাবি করেন। আমি এতে বাধা দিলে বকুল আমাকে মরেতে আসেন। তখন আমি তাকে পাল্টা আঘাত করি।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করে স্থানীয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে এ আল্টিমেটাম দেয় উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল।
তবে ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও কেউ মামলা করেনি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
আর হামলায় আহত অবস্থায় বকুলকে প্রথমে বিশ্বনাথ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা জানান, ছাত্রদল নেতাকে মারধর করার পর অভিযুক্ত শামীম বিশ্বনাথ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধরতে ভিড় জমালে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনার পর হাবিবুর রহমান হাবিবকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনায় শ্রমিক লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আটক করা হয়নি। হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ছিল। সেই মামলায় তাকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়।