মৌলভীবাজারেও হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২৬ ভর্তি হয়েছে। এদের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ২০ বেডের আলাদা আইসোলেশন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানেই আজ বুধবার (১ এপ্রল) থেকে ভর্তি করা হবে হামের লক্ষণ নিয়ে আসা রোগীদের। এমন তথ্য জানিয়েছেন ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. প্রনয় কান্তি দাস।
তিনি জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশুসহ ৫জন। হামের লক্ষণ নিয়ে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে মহাখালীতে অবস্থিত সরকারি জনস্বাস্থ্য শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অন্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বড়লেখায় ২ জন, জুড়িতে ১ জন, কুলাউড়ায় ৪ জন, রাজনগরে ৩ জন শ্রীমঙ্গলে ৫ জন, সদরে ৪ জন ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছেন ৭ জন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘হামের লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ৬জনের হাম শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভতি রয়েছে। আমাদের হাসপাতালে শয্যা সংখ্যাও কম এবং শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় ২২জনকে চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে গিয়েও হোম আইসোলেশনে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ২৬ জন রোগীর স্যাম্পল ঢাকায় ল্যাবে পাঠিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ঢাকা থেকে। এ জন্য রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্দি-জ্বর, হাঁচি-কাশি ও শরীরে র্যাশ বের হওয়া হামের লক্ষণ।’
কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।