শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।
অধিদপ্তর জানায়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে যেমন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। সপ্তাহিক বাজার করতে আসা ক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে।
রাজধানীর রায়েরবাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা মো. আব্দুল রাজ্জাক মোল্লা বলেন, “সকাল থেকেই বৃষ্টি। বাজারে আসতে রিকশা পাওয়া যায়নি, আবার যেসব রাস্তা দিয়ে এসেছি সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে ছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।”
একইভাবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী সাফিয়া আক্তার বলেন, “শুক্রবার পরিবারের জন্য সাপ্তাহিক বাজার করতে বের হয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে বাজারে লোকজন কম ছিল, তবে যাতায়াতে অনেক সমস্যা হয়েছে। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বিক্রেতারা প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।”
এদিকে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গত তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, বিভাগের বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা কমে ২১১ মিলিমিটারে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, “জুলাই বর্ষাকালের মধ্যভাগ হওয়ায় এ সময় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক ঘটনা। বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এসব অঞ্চলে থেমে থেমে সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, শনি ও রবিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হলে শনিবার থেকেই নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি থাকা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।