আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে একাধিক দলের লড়াই আবারও নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পাশাপাশি ত্রিদেশীয় ও চারজাতি সিরিজ আয়োজন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মিত অংশ ছিল ত্রিদেশীয় ও চারজাতি সিরিজ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এসব আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে এমন সিরিজ দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল ভারত।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে আগের মতো আর্থিক সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে অনেক ক্রিকেট বোর্ডের জন্য। একই সঙ্গে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একাধিক শীর্ষ দলকে নিয়ে সিরিজ আয়োজনকে বাণিজ্যিক ও দর্শক আকর্ষণের দিক থেকে বেশি কার্যকর মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ত্রিদেশীয় সিরিজের সংখ্যা খুবই সীমিত। ২০২৬ সালে নামিবিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও স্বাগতিক নামিবিয়াকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল ৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা।
ওয়ানডেতেও বহুদলীয় সিরিজের উপস্থিতি বেশ কমে গেছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ হয়েছে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে নিয়ে আয়োজিত সেই সিরিজে তিন দল অংশ নেয়।
আইসিসির নতুন ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচিতে ত্রিদেশীয় ও চারজাতি সিরিজের সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে একই প্রতিযোগিতায় একাধিক শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ক্রিকেট বোর্ডগুলোর জন্য বাড়তে পারে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও, পাশাপাশি দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আইসিসি। পরিকল্পনাটি আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচিতে বহুদলীয় সিরিজ কতটা জায়গা করে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।