• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশে হবে না: সারজিস আলম বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জকে সিউকের আওতার বাইরে রাখার দাবি লুনা ও এমরানের বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের বিশ্বনবীর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনাই আমাদের লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় ভুটানের রাজার এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি, বিমানবন্দরে গেলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল পাকিস্তানে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার নিয়ে সংসদ ও রাজপথে সরব হবে এনসিপি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণে সোনার মানুষ হতে হবে-বড়লেখায় মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনে কত টাকা লাগবে বাংলাদেশি কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র-ওয়াকিটকি ফেলে পালাল বিএসএফ এনসিপি কার্যালয়ে জামায়াত আমির দুই দিনে কলকাতার ২ শতাধিক হোটেল বন্ধ, ভোগান্তিতে বাংলাদেশি পর্যটকরা এক মাস পেছাল স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিষিদ্ধ তবু সিলেটের মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ত্রি-হুইলার, বাড়ছে দুর্ঘটনা আনুষ্ঠানিভাবে যাত্রা শুরু করল সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মহানবীর (সা) আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার সিমেবির ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে ভুয়া তথ্য দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করেও হলেন শাবি প্রো-ভিসি

‘ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা’

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

48

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফেসবুক পোস্টে তিনি এ শুভেচ্ছাবাণী দেন। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো-

‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এ দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক অনবদ্য, গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে ছাত্রদের এ স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উন্মত্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন। দেশের মুক্তিকামী সর্বস্তরের মানুষ জালিম শাসকগোষ্ঠীর রক্ত চক্ষু, গুলি, বোমা উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশব্যাপী দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ও বীরত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র, জুলুম-নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। দেশের মানুষ খুনি স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে মুক্তি লাভ করে। এ সবই জুলাই গণআন্দোলনের গৌরবময় ফসল।

এ আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং রক্তমূল্য দিতে হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের মাধ্যমে নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। কয়েক হাজার মানুষ তাদের হাত, পা বা চোখ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমসহ যেসব তাজা প্রাণ বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন, আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাদের স্মরণ করছি এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে আন্দোলনের সময় আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী, শহীদ পরিবার এবং নির্যাতিত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী।

অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে, একটি মহলের কারণে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করতে পারিনি। এখনো আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জাতিকে যেকোনো মূল্যে তাদের এই রক্তঋণ পরিশোধ করতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে- শহীদদের এ রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। বীর শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা কেবল তখনই আংশিক পরিশোধ করতে পারব, যখন একটি বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো।

আসুন, আজকের এদিনে আমরা অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করুন এবং দেশের মানুষকে সুখে-শান্তিতে রাখুন। আমিন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd