• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সিমেবির ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে ভুয়া তথ্য দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করেও হলেন শাবি প্রো-ভিসি মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয় সরকারের ব্যর্থতায় প্রতিদিন ১০ জনের বেশি খুন হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু এভাবে কতদিন, সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ডা. শফিকুর রহমান মক্কায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হোটেল কেনার হিড়িক পড়েছে: আসিফ মাহমুদ জানা গেল বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচের সম্ভাব্য তারিখ মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী সিলেট মহানগর জামায়াতের উলামা বিভাগের গণসংযোগ প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে গিয়ে সাড়ে ৩ বছরের মেয়েকে খুন, বাবার মৃত্যুদণ্ড ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ: আন্তর্জাতিক সূচি নির্ধারণে ফিফার সঙ্গে কথা বলবে বাফুফে সিলেটে একদিনে সড়কে ঝরল আরও ৩ প্রাণ হাইকোর্টের রায়ে অসঙ্গতি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির নুসরাত হত্যা: মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল খলনায়ক ডনকে ‘ধুরন্ধর’ উল্লেখ করে রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি বিশ্বনাথে দাখিল উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করলো সোনাপুর চ‍্যারিটি গ্রুপ ‘ছাত্রশিবির ছেড়ে যুবশিবির করায় জামায়াত আমার ওপর হামলা চালায়’ বিড়ালের আঁচড়ের পর ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু, যা বললেন চিকিৎসক শাল্লায় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে সংবর্ধনা প্রদান আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ: ডা. শফিকুর রহমান

ভুয়া তথ্য দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করেও হলেন শাবি প্রো-ভিসি

Reporter Name / ৪ Time View
Update : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

7

২০২২ সালে ভুয়া তথ্য দিয়ে জার্নাল প্রকাশ করেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। সেই সময়ে আওয়ামীলীগ আমলের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের অনুকম্পায় পার পেয়েছিলেন। সেই যাত্রায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাতারাতি বনে যান বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতা। বর্তমান ভিসি অধ্যাপক খায়রুল ইসলামের অনুকম্পায় এবার প্রো-ভিসি পদ বাগিয়ে নিলেন সেই শিক্ষক। গবেষণায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া এই শিক্ষককে প্রো-ভিসি হিসেবে মানতে পারছেন না বিশ^বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শাবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দ্বন্ধ চরমে পৌঁছেছে।
প্রো-ভিসি নিয়োগের দিনই পদত্যাগ করেন কম্পিউটার ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক (সিআইসি) অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমদ। একই দিনে নিয়োগ পাওয়া শাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সেক্রেটারি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ আতিকুল হক কোষাধ্যক্ষের পদ প্রত্যাখান করেন। এই দুই ঘটনার পর ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দ্বন্ধ।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৬ মে ‘স্ট্রাকচারাল মডেলিং টু আন্ডাষ্ট্যন্ড দ্য রিলেশনশিপ অ্যামং ফুড সেফটি নলেজ, এটিটিউড, অ্যান্ড সেল্ফ-রিপোর্টেড এইচএসিসিপি প্র্যাকটিসেস ইন রেস্টুরেন্ট অ্যামপ্লয়েজ ইন বাংলাদেশ’ (Structural modeling to understand the relationship among food safety knowledge, attitude and self-reported HACCP practices in restaurant employees in Bangladesh) শিরোনামে ‘প্লোস গ্লোবাল পাবলিক হেল্থ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশিত হয়। সেখানে অথর হিসেবে অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম এবং কো-অথর হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান ও রায়হান উদ্দিন। গবেষণা শুরুর আগে নিয়মানুযায়ী অনুমতি নেওয়া, ল্যাবরেটরির ঠিকানা ব্যবহার করা ও ডাটা সংগ্রহ করার কথা। কিন্ত এর কোনোটাই করেননি এই শিক্ষক। তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেওয়া, ল্যাবরেটরির ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা, ডাটা সংগ্রহ এবং এর সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকেন্দ্রের সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করেন।

গবেষণায় এমন মিথ্যা তথ্য দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মান ক্ষুন্ন হয়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের এক শিক্ষক বলেন, গবেষণায় জালিয়াতি করা এমন একজন বিশে^বিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

তথ্যানুযায়ী, গবেষণা পরিচালনার জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ বোর্ড থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণাপত্রটিতে। যার রেফারেন্স নং হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (এফইটি/এম/১৯/০১৪)। কেননা কোনো স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করতে রিভিউ বোর্ড কিংবা ইথিক্স বোর্ড থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু গবেষণাটি পরিচালনা ও প্রকাশের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ইথিক্স বোর্ড ছিল না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৮তম একাডেমিক কাউন্সিল সভার সুপারিশে ও ২২৪ নং সিন্ডিকেট সভায় ‘সাস্ট রিসার্চ ইথিক্যাল বোর্ড’ (এসআরইবি) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর। অথচ ২০১৯ সালে গবেষণাটির কাজ শুরু করা হয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণাপত্রটিতে ‘তথ্য সংরক্ষণের স্টেটমেন্টে’ উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশিত এ গবেষণার তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রে সংরক্ষিত রয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রে এ গবেষণার এমন কোনো তথ্য সংরক্ষণ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বা অনুমতি নেয়া হয়নি। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, রিসার্চ সেন্টারে এমন কোনো ডাটাবেজ নেই এবং এখানে আমরা কোনো ডাটা সংরক্ষণ করি না।

একই স্টেটমেন্টে ডাটা স্টোর সম্পর্কে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি’র নামে একটি ল্যাবরেটরি কথাও বলা হয়েছে, যার ঠিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন- ই এর দ্বিতীয় তলার ৩২২/বি নং কক্ষ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই ঠিকানায় কোনো ল্যাবরেটরি নেই বরং উল্লেখিত ঠিকানার কক্ষটি অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলামের নিজের বসার কক্ষ।

গবেষণাপত্রটির করেসপন্ডিং অথর অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলামের সাথে ফার্স্ট ও সেকেন্ড অথর হিসেবে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী যথাক্রমে মো. জাহিদ হাসান ও রায়হান উদ্দিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য সংযোজনে অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে অথর এবং কো-অথরের মাঝে। এ বিষয়ে মো. জাহিদ হাসান ওই সময়ে গণমাধ্যমকে বলেন, এসব ডাটা সংগ্রহ ও অনুমতি নেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শুধু আমাকে এটি লিখে দিতে বলা হয়েছে, আমি লিখে দিয়েছি। এ বিষয়ে অধ্যাপক রবিউল ইসলাম এবং গবেষণাপত্রটির আরেক লেখক রায়হান উদ্দিন বলতে পারবেন।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, গবেষণায় এমন জালিয়াতির ঘটনায় তিরস্কতারের পরিবর্তে তাঁকে পুরস্কার স্বরুপ প্রো-ভিসি বানানো হয়েছে। নব্য বিএনপি সাজা এই শিক্ষক শুধুমাত্র ভিসির ঘনিষ্টজন হওয়ায় প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলে মনে করছেন বিএনপি সমর্থিত সিনিয়র শিক্ষকরা।

জানা গেছে, ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শাবিপ্রবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের মাঝে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কোণটাঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠকালীন সিনিয়র শিক্ষকরা। দুই গ্রুপে বিভক্ত বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন। এছাড়া সিনিয়র শিক্ষকদের আরেকটি গ্রুপ রয়েছে। দুটি গ্রুপই পর্যায়ক্রমে আগামী দু’এক মাসের মধ্যে প্রশাসনিক সকল পদ থেকে পদত্যাগ করবে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট প্রো-ভিসির নিয়োগেরন দিন পদত্যাগ করেন কম্পিউটার ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমদ। একই দিনে নিয়োগ পাওয়া শাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সেক্রেটারি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ আতিকুল হক কোষাধ্যক্ষের পদ প্রত্যাখান করেন। তিনি এই পদে যে৩াগদান করবেন না বলে ওইদিনই সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন।
সাস্ট রিসার্চ ইথিক্যাল বোর্ডের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম ওই সময়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ওই সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইথিক্যাল বোর্ড ছিল না। বোর্ড না থাকা সত্ত্বেও ইথিক্স বোর্ডের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো গবেষণা পরিচালনা করে, সেটা অন্যায়।

খুলনা বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাস করা জিএম রবিউল ইসলাম ২০০৪ সালে শাবিপ্রবিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ২০১৯ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। গবেষণায় ভূয়া তথ্যের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। তিনি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, সাস্ট রিসার্চ সেন্টারে ফান্ডিংয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট করি, সে হিসেবে আমি ভেবেছি, লিখে দিলেই হয়ে যাবে। আমি না বুঝেই এ তথ্য লিখে দিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd