বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, তারা ক্রমাগত মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সাধারণ মানুষ তাদের প্রকৃত রূপ চিনে ফেলায় এখন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। জনগণের এই ক্ষোভের মুখে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য সরকারকে ওই দলের প্রটোকল বিএনপির তুলনায় তিন গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের আইনপুর এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আবারও ভোট চুরির নীল নকশা ও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে আপনারা নিশ্চয়ই তা দেখেছেন। আমি বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
একটি দলের নাম উল্লেখ না করে তাদের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যেই দলটি সম্পর্কে আপনাদের সজাগ থাকতে বলছি, তারা কয়েকদিন ধরে মানুষকে এমন সব কথা বলছে যা শুধু মিথ্যাই নয়, গুনাহের শামিল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, কিন্তু সেই সময় এই দলটির ভূমিকা কী ছিল? যদি তারা তখন জনগণের পক্ষে থাকত, তবে এত মানুষকে শহীদ হতে হতো না। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। তাদের আসল চেহারা মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে।
সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, তখন দেশে বাকস্বাধীনতা ছিল। ধানের শীষের শাসনামলে মানুষ সরকারের সমালোচনা করতে ভয় পেত না এবং গুম-খুনের মতো কোনো ঘটনা ঘটত না। উন্নয়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে যে সময় লাগে, লন্ডন যেতে তার চেয়েও কম সময় লাগে। এটাই বিগত সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের বাস্তব চিত্র।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে যাত্রা শুরু করে মৌলভীবাজারে পৌঁছান তারেক রহমান। আইনপুরের এই সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল কবিরের সভাপতিত্বে চারজন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।
১২ জানুয়ারির নির্বাচনকে দেশ বাঁচানোর সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। তাদের ত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে ধানের শীষে সিল দিয়ে আমাদের বিজয়ী করতে হবে।” দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।