এই নম্বরটির কল ডেটা রেকর্ড বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করত রাব্বি নামের এক ব্যক্তি। তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই রাব্বির স্ত্রীই হলো পলাতক গৃহকর্মী আয়েশা। তাদের বর্ণনা বাদীর দেয়া বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান শেষে অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামে তার দাদা-শ্বশুরবাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আয়েশার কাছ থেকে চুরি করা একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশকে সে জানায়, কাজে যোগ দেয়ার দ্বিতীয় দিনই সে দুই হাজার টাকা চুরি করে। চতুর্থ দিন সকালে টাকা চুরির বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। লায়লা আফরোজ ফোনে তার স্বামীকে বিষয়টি জানাতে চেষ্টা করলে আয়েশা আগে থেকে লুকিয়ে আনা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে পেছন থেকে তাকে আঘাত করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লায়লা আফরোজ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।
এ সময়ে মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আয়েশা তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। নাফিসা ইন্টারকমে গার্ডকে ফোন দিতে চাইলে আয়েশা ইন্টারকমের মূল তার ছিঁড়ে ফেলে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাফিসারও মৃত্যু হয়।
এরপর নিজের রক্তমাখা কাপড় বদলে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয় ঘাতক আয়েশা। ঢাকা ছাড়ার সময় সিংগাইর ব্রিজ থেকে মোবাইল ও পোশাকভর্তি ব্যাগ নদীতে ফেলে দেয় সে।
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম আরও জানান, আয়েশার আগেও চুরির অভ্যাস ছিল এবং সে তার নিজের বোনের বাড়ি থেকেও অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছিল।
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম ঢাকাবাসীর প্রতি ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানান: ‘আপনারা যারা বাসায় গৃহকর্মী রাখেন তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত হবেন। আপনার বাসায় কাজ করা ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও তাকে শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে রাখবেন। কারণ, এখানে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় জড়িত।’