কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে কার্যালয়ে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখানে নবনিযুক্ত ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উপহার এবং সংবর্ধনা জানান। পরে এ সংবর্ধনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সমালোচকদের একাংশের মতে, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতা। তাই একজন জনপ্রতিনিধির সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে এ ধরনের সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, একজন সংসদ সদস্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে সংবর্ধনা দিলে সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বা অপ্রকাশিত চাপের বার্তা যেতে পারে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে অনেকেই ঘটনাটিকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক থাকলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সমন্বয় আরও কার্যকর হতে পারে।
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি সম্প্রতি মিরপুর উপজেলায় যোগদান করেছেন। যেহেতু এলাকার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, সে কারণেই সংসদ সদস্য সৌজন্যবশত তাকে শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সংবর্ধনার ছবি প্রকাশ করে তিনি মিরপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ইউএনওকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।