মামুন হোসাইন:
বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সহিংসতা ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে চলেছে। বিগত বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রকে গভীর সংকটে ফেলেছে। জনগণের কল্যাণ ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বদলে রাজনীতি এখন মূলত ক্ষমতা দখল ও টিকিয়ে রাখার সহিংস লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই আচরণ বদলাবে— এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি পতিত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ভূমিকা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গেনতুন দল এনসিপি (NCP)-এর রাজনীতি ও কর্মকাণ্ডও সতর্কভাবে মনিটরকরার প্রয়োজন রয়েছে। সাবেক শাসক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেরাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ দেশি–বিদেশি পর্যায়েউঠে এসেছে। জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপির নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিরকরে তুলেছে। জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস রাজনীতি ওআদর্শিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। আর এনসিপি নিজেদের নতুন বিকল্প হিসেবেতুলে ধরলেও তাদের রাজনৈতিক আচরণ কতটা ভিন্ন— তা এখনো স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে ক্ষমতার লড়াই ও রাজনৈতিক আচরণ বাংলাদেশের সাধারণমানুষের জীবনকে কতটা স্বস্তিদায়ক করতে পারছে, তা এখনও অনিশ্চিত।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–২০২৪ সালে আওয়ামীলীগের শাসনামলে ২,৬৯৯টি বিচারবহির্ভূতহত্যা, ৬৭৭টি গুম এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১,০৪৮টি; এসবঘটনার বড় অংশই র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়েনথিভুক্ত। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী— র্যাব, পুলিশ ও সেনা— এতে সরাসরি যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার, বিরোধীদের সহিংসতা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির বিষয়গুলোও উল্লেখ করেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সন্ত্রাস দমন আইন এবং অন্যান্য বিধি ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপকহারে ঘটেছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো “accountability deficit” এবং অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছে। যা নিরাপত্তা বাহিনী এবং দলীয় ক্যাডারদের আরও বেপরোয়া করেছে।
একই সময়ে আওয়ামীলীগ দীর্ঘ শাসনামলে দলীয় ক্যাডাররা– অর্থনীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি-বাণিজ্য এবং নির্বাচনী সহিংসতার মাধ্যমে একটি কাঠামোগত “অপরাজনীতি” তৈরি করেছে। ছাত্ররাজনীতি, ভর্তি-বাণিজ্য এবং ক্যাডার নিয়ন্ত্রণসহ নানা ধরনের অনিয়মকে প্রশাসনের অংশে পরিণত করা হয়েছে। এতে আইনের শাসন কমে গেছে এবং ক্ষমতার নৈরাজ্য ও দলীয় আনুগত্য মূল নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। পৃথক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত দুই দশকে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত সহিংসতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নীতি-সংগঠিতভাবে পরিচালনা করেছে। যা শেষ পর্যন্ত ছাত্রবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটার দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রবিক্ষোভ এবং শেখ হাসিনার পতনের ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হলে বিএনপি নিজেকে প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে সামনে আনে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, অনেক সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য তেমন দেখেন না, বিশেষ করে সহিংসতা ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে। “Bangladesh post‑resignation violence (2024–present)” নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপি‑সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলো নানা স্থানে সহিংসতায় জড়িত হয়েছে। অন্য নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ এর জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩৫টি হত্যাকাণ্ড, ৬৩টি ধর্ষণ, ২৬৬টি চাঁদাবাজি, ৭৫টি অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা, ১৪১টি লীগ পুনর্বাসন এবং ৪১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ‑ঘনিষ্ঠ গ্যাং ও পূর্বের ছত্রছায়ার চক্রগুলো ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিএনপি ও জামায়াত‑ঘনিষ্ঠ গ্রুপের সঙ্গে মিশে নতুনভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর ওপর হামলা, ব্যবসা দখল, জোরপূর্বক চাঁদা আদায় ও গণপিটুনিমূলক হত্যার ঘটনা বেড়েছে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংক্রান্ত IRB রিপোর্টে বলা হয়েছে, পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জমি ও পরিবহন সেক্টরে দখলদারি শুরু করেছে। বিশেষ করে, ঢাকার কিছু এলাকায় “টোল কালেকশন”এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। মানবাধিকার সংস্থা HRW সতর্ক করেছে, ক্ষমতার বদলের পরও পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বিএনপি‑ঘনিষ্ঠ নেতাদের যোগসাজশ তৈরি হচ্ছে।যা পুরোনো দলীয় স্বার্থে আইন ব্যবহার ও ভয় সৃষ্টি করার সংস্কৃতি পুনরায় চালু করার ঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, ছাত্রবিক্ষোভ শুরুতে আওয়ামীলীগ বিরোধী গণআন্দোলন হলেও বিএনপি তার রাজনৈতিক সুবিধা তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে ছাত্রসমাজের আস্থা হারিয়েছে। ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্ত বাঋণখেলাপির হার সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির প্রায় ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত, যা স্বতন্ত্র প্রার্থী (৩২.৭৯%) ওজাতীয় পার্টির (২৬.৯৭%) তুলনায় অনেক বেশি। সব দলের মিলিত ঋণেরপরিমাণ প্রায় ১৮,৮৬৮ কোটি টাকা। একই সময়ে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেবিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আভ্যন্তরীণ সংঘর্সে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেনএবং শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক জামায়াত নেতাকে বিএনপি কর্মীরা হত্যাকরেছে। উল্লেখ্য, এসব হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতারকরেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দলীয় প্রধান তারেক রহমানের বক্তব্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এনসিপিনেতা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, তারেক রহমান প্রথম দিন থেকেইধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধের মতো সংবেদনশীল ইস্যু ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণকরছেন। যা “লেভেল প্লেইং ফিল্ড”নষ্ট করছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ বলছে, তারনির্বাচনী ভাষ্য মূল নীতি–ভিত্তিক রাজনীতির বদলে আবেগ, উস্কানি ওবিভাজনকেন্দ্রিক। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলও তারেক রহমানেরসমালোচকদের “গণতন্ত্রের শত্রু”হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যা দলীয়ভিন্নমতকেও শত্রু হিসেবে দেখানোর সংস্কৃতিকে জোরদার করছে। ফলে তারেকরহমানকে অনেকেই বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে দেখছেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের দল জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং অনেক নেতা মুক্তি পায়। বিশ্লেষকরা এটিকে “ইসলামি রাজনীতির পুনরুত্থান”হিসেবে দেখেছেন। ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, হাসিনা পতনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা ও “মব ভায়োলেন্স” বেড়েছে। এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায়ই জামায়াতসহ ইসলামি গোষ্ঠীর প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হচ্ছে। জামায়াত ২০২৪-এর ছাত্রআন্দোলনকে ব্যবহার করে নিজেকে“গণতান্ত্রিক অংশীদার”হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু অতীতের সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করেনি। যা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি (NCP) জামায়াতের সঙ্গে আসন-সমঝোতা করে। যা জামায়াতকে বহু বছরের মধ্যে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপির অনেক তরুণ নেতারা পদত্যাগ করেছেন। যার উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন দলের প্রভাবশালী নারী নেতৃরা। এনসিপি থেকে পদত্যাগকারীরা কারণ হিসেবে “জামায়াতের রাজনৈতিক নীতি এনসিপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক” বলে মনে করেন। সমালোচকেরা বলছেন, ক্ষমতার এই সমীকরণে জামায়াতকে জায়গা দেওয়া “অপরাজনীতি”-র ধারাবাহিকতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০২৪ সালের ছাত্রবিক্ষোভের নেতাদের মধ্যে গড়া নতুন দল এনসিপি (National Citizen Party) নিজেদেরকে দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িকতা–বিরোধী, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমুখী শক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অনেক তরুণ প্রথমে এনসিপিকে “নতুন হাওয়া”মনে করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত জোটের সঙ্গে আসন-সমঝোতা করে। যা মাঠের বাস্তবতায় দেখিয়েছে যে জোটে মূল নিয়ন্ত্রক শক্তি এখন জামায়াত। এর ফলে দলের কিছু আলোচিত নেতা পদত্যাগ করে স্বাধীন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং হয়েছেন। এই জোট এনসিপির নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করছে। এই জোট–সমঝোতার পর সমীক্ষায় দেখা গেছে, এনসিপির সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যেখানে বিএনপি ৩০ শতাংশ ও জামায়াত ২৬ শতাংশে আছে।
আল জাজিরা বলছে, এনসিপি অনেকটা পুরনো রাজনীতির মতোইআপসকামী ও ক্ষমতালোভী হয়ে উঠেছে। বিশেষত যখন তারা উগ্র ইসলামিদলের সঙ্গে জোটে আসে এবং সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নতৈরি হয়। অল্প সময়েই কিছু নেতা দামি গাড়ি, বাড়ি ও বড় ব্যাংক ব্যালেন্সঅর্জন করেছেন। যা সাধারণ মানুষ এবং দলীয় সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টিকরেছে। দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠায় অনেকেই পদত্যাগ করেছেন এবং “তৃণমূলএনসিপি” নামে নতুন একটি গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। এছাড়া কিছু নেতাচাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। যা তাদের “নতুনরাজনীতি”র প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করেছে।
তথ্য-উপাত্ত ও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশেররাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্ষমতার লড়াই, সহিংসতা ও দুর্নীতিরসংস্কৃতি এতোটাই গভীর যে, সামান্য পরিবর্তন বা নতুন দল গঠনের মাধ্যমেতা দূর করা এখন প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থ, দলীয়আনুগত্য ও ক্ষমতালোভই এখন মূল চালিকাশক্তি, আর জনগণের কল্যাণ বাগণতান্ত্রিক অধিকার প্রায়শই উপেক্ষিত। এভাবে চলতে থাকলে, দেশেরসাধারণ মানুষ শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হবে না, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ভোগ করতেবাধ্য হবে। শেষ পর্যন্ত, দেশের রাজনীতি এখন এমন এক ভয়ংকর চক্রেআবদ্ধ যেখানে জনগণের স্বার্থ কোনোদিনই প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিতহচ্ছে না।
লেখকঃ কলাম লেখক ও এক্টভিস্ট।