সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ছয় ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ না করে পাইপের মাধ্যমে টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি ছড়ায় ফেলার অভিযোগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিত দেবের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন-২০০৯-এর ৯২ ধারায় ছয়জনকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ছড়া ও ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলা এবং দ্রুত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের অঙ্গীকার করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে ফাজিলচিশত এলাকা পরিদর্শনে যান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় টয়লেটের বর্জ্য ছড়া ও ড্রেনে না ফেলার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মালনীছড়ার পানি স্বচ্ছ থাকার কথা থাকলেও সেপটিক ট্যাংক না থাকায় অনেক বাসাবাড়ি থেকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি টয়লেটের বর্জ্য ছড়ায় ফেলা হচ্ছে। এমনকি একটি মাদ্রাসার টয়লেটের বর্জ্যও ছড়ায় গিয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এভাবে টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি ছড়ায় ফেলার কারণে শুধু ওই এলাকার পরিবেশই নয়, এর প্রভাব পড়ছে পুরো নগরীতে। ছড়ার পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করে ছড়ার সঙ্গে টয়লেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছড়া, ড্রেন ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।