জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এই ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ, বর্বর ও অমানবিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ অতর্কিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি, লাঠিচার্জ চালায়। পরিকল্পিতভাবে পুলিশের দুর্বৃত্তায়ন এবং মব সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়। রাস্তায় ফেলে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়। যা সভ্য সমাজ ও মানবাধিকারের সকল নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
প্রথমে পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরবর্তীতে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং নির্বিচার লাঠিচার্জ চালানো হয়। এই হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা, জুলাই এক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন রনিসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশের এই হামলা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এমনকি দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মী ও সাধারণ পথচারীরাও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি। অমানবিক হামলায় অনেক আন্দোলনকারীর হাত-পা ভেঙে গেছে। অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন।
অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যারা এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে, আজ তাদের ওপরই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলা চালানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি ছিল জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা। অথচ সেই দাবিকে পাশ কাটিয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, দমন-পীড়নের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি দমিয়ে রাখা যায় না। জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে জুলাই নেটওয়ার্ক আপসহীনভাবে জনগণের পাশে থাকবে