কুমিল্লার উজ্জ্বল জয় করলেন হিমালয়ের তিন ভয়ংকর ট্রেইল!
Reporter Name
/ ১১০
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
Share
Screenshot
কুমিল্লার উজ্জ্বল জয় করলেন হিমালয়ের তিন ভয়ংকর ট্রেইল!
বরফে ঢেকে থাকা বিপজ্জনক ট্রেইল যেখানে হাঁটা-ই কঠিন, সেখানে সাইকেল নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন কুমিল্লার যুবক আরিফুর রহমান উজ্জ্বল। দুই মাসেরও কম সময়ে জয় করেছেন হিমালয়ের তিনটি দুর্গম পথ মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট ও এভারেস্ট বেজক্যাম্প থ্রি পাস। একই সফরে তিন ট্রেইল জয়ের এ ঘটনা সম্ভাব্য এক বিশ্বরেকর্ড বলেই মনে করছেন অনেকে। উজ্জ্বলের ‘দুরন্ত হিমালয়ান এক্সপিডিশন’-এর প্রথম গন্তব্য ছিল মানাসলু সার্কিট। মোট দূরত্ব ১৭৪ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭,৩৯০ ফুট। কাদাযুক্ত পথ, তীব্র ঠান্ডা আর বরফের বাধা টপকে ১১ দিনে জয় করেন লারকে পাস। পরের চ্যালেঞ্জ ছিল ৩০৫ কিলোমিটারের অন্নপূর্ণা সার্কিট। ১৭,৭৭৯ ফুট উচ্চতার থরংলা পাস যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ ট্রেকিং পাস।...
161
বরফে ঢেকে থাকা বিপজ্জনক ট্রেইল যেখানে হাঁটা-ই কঠিন, সেখানে সাইকেল নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেন কুমিল্লার যুবক আরিফুর রহমান উজ্জ্বল। দুই মাসেরও কম সময়ে জয় করেছেন হিমালয়ের তিনটি দুর্গম পথ মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট ও এভারেস্ট বেজক্যাম্প থ্রি পাস। একই সফরে তিন ট্রেইল জয়ের এ ঘটনা সম্ভাব্য এক বিশ্বরেকর্ড বলেই মনে করছেন অনেকে।
উজ্জ্বলের ‘দুরন্ত হিমালয়ান এক্সপিডিশন’-এর প্রথম গন্তব্য ছিল মানাসলু সার্কিট। মোট দূরত্ব ১৭৪ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭,৩৯০ ফুট। কাদাযুক্ত পথ, তীব্র ঠান্ডা আর বরফের বাধা টপকে ১১ দিনে জয় করেন লারকে পাস।
পরের চ্যালেঞ্জ ছিল ৩০৫ কিলোমিটারের অন্নপূর্ণা সার্কিট। ১৭,৭৭৯ ফুট উচ্চতার থরংলা পাস যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ ট্রেকিং পাস। মাত্র ৯ দিনে পার হন উজ্জ্বল।
একই সফরে তিনি পৌঁছান ১৬,৫৫৭ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত তিলিচো লেকে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেক।
শেষ অংশে তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে হিমালয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক ট্রেইল এভারেস্ট থ্রি পাস ও এভারেস্ট বেজক্যাম্প। বরফে ঢাকা রিজ, হিমশীতল রাত, অক্সিজেন স্বল্পতা ও তীব্র বাতাস সবই ছিল পথরোধ করে।
৩৪০ কিলোমিটার এই রুটে কখনো সাইকেল চালিয়ে, কখনো কাঁধে নিয়ে, আবার কখনো ঠেলে এগোতে হয়েছে তাকে। এভারেস্ট থ্রি পাসের মধ্যে কংমালা পাসের উচ্চতা ১৮,০৬৩ ফুট, চোলাপাসের উচ্চতা ১৮,২৬৫ ফুট এবং রেঞ্জুলা পাসের উচ্চতা ১৮,৬৮৬ ফুট ছিল। এইছাড়া এভারেস্ট বেজক্যাম্পের উচ্চতা ছিল ১৮,০৭৬ ফুট। এভারেস্ট থ্রি পাস ও এভারেস্ট বেজক্যাম্প শেষ করতে তার সময় লেগেছে ২২ দিন।
আরিফুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ২০২১ সালে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন তিনি। নার্ভে সমস্যা দেখা দেয় এবং একই সময়ে তিনি হারান পরিবারের তিন সদস্যকে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শক্তি খুঁজে পান সাইক্লিংয়ে। সেই শক্তিই একসময় তাকে নিয়ে যায় পৃথিবীর ছাদ হিমালয়ের পাসগুলোর শীর্ষে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি। তার বাবা ছাদেকুর রহমান কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সাবেক শিক্ষক, বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। উজ্জ্বল পড়েছেন কুমিল্লা জিলা স্কুল ও ভিক্টোরিয়া কলেজে। বর্তমানে তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক।
বরফ, বাতাস আর মৃত্যুঝুঁকি সবকিছুকে জয়ের ধারায় রেখে হিমালয়ের উচ্চতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা ওড়িয়েছেন কুমিল্লার এই যুবক। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত না, এটি এক নতুন প্রজন্মের প্রেরণার গল্প।