ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে গেছে। এর প্রভাব এখন শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের চাপ ও উসকানির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি এখন নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, এই সামরিক পদক্ষেপ আদৌ কতটা প্রয়োজন ছিল এবং এর ফল কী হতে পারে। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভূরাজনৈতিকভাবে সত্যিই কোনো বড় সাফল্য বয়ে আনবে কি না, এ প্রশ্নও এখন প্রকট।
রয়টার্স বলছে, হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জল, স্থল ও আকাশপথে ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে দুই মিত্র রাষ্ট্র। এর পরই সংকটটি দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পরিণতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউসে দুই মেয়াদে থাকা ট্রাম্প এর আগে সাধারণত এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে গেছেন। তিনি বরং দ্রুত ও সীমিত সামরিক অভিযানকে প্রাধান্য দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান বা জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করেছিলেন।
ওয়াশিংটনের জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, ‘ইরান আক্রমণ একটি জটিল এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান। ট্রাম্প এখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলের ঝুঁকি নিচ্ছেন।’
ক্ষমতায় এসে ‘অর্থহীন’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আসন্ন হুমকি না থাকলেও এই অভিযান শুরু করা হয়েছে, যদিও প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা ভিন্ন দাবি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র উদ্দেশ্য ও শেষপর্যায়ের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ‘জয়’ বলতে কী বোঝাবে, সে বিষয়েও তার বক্তব্য বারবার বদলাচ্ছে। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এ মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ট্রাম্প স্পষ্টভাবে তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এগুলো হলো—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী অকার্যকর করা, প্রক্সি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার সক্ষমতা বন্ধ করা এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।’
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা বাড়লে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়লে, ট্রাম্পের এই বড় পররাষ্ট্রনীতির জুয়া রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকান পার্টির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
-এশিয়া পোস্ট