ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত দায়িত্ব: এরদোয়ান
Reporter Name
/ ৪
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
Share
ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির সম্মিলিত দায়িত্ব: এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, সম্মিলিত দায়িত্ব। বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, সম্মিলিত দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক হিসেবে আমরা প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে কথা বলে যাব।’ এরদোয়ান বলেন, ‘গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকার গোটা বিশ্বের চোখের সামনে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি উপেক্ষা করা...
7
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, সম্মিলিত দায়িত্ব।
বুধবার (১২ আগস্ট) আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা সমগ্র মানবজাতির, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের, সম্মিলিত দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্ক হিসেবে আমরা প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে কথা বলে যাব।’
এরদোয়ান বলেন, ‘গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকার গোটা বিশ্বের চোখের সামনে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি উপেক্ষা করা বা এ বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকা সম্ভব নয়।’
এরদোয়ান জানান, ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে তুরস্ক ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলজুড়ে দখলদারত্ব, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ভূমি দখলের নীতি আরও তীব্র হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এরদোয়ান বলেন, শুধু ২০২৬ সালেই দখলদারদের সহিংসতা, স্থাপনা ধ্বংস এবং উচ্ছেদের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘পদ্ধতিগত দখলদারত্বের’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ফিলিস্তিনি প্রশাসন যাতে নিজ ভূখণ্ডে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ক্রমেই আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে, সে লক্ষ্যেই একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু কৌশল নেয়া হয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, বিশৃঙ্খলা ও নতুন সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ফিলিস্তিন ইস্যুকে সরিয়ে দিতে চায়। তবে তারা সফল হবে না।
গাজায় পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান এরদোয়ান।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের গঠনমূলক অবস্থানের পরও ইসরায়েলের বর্তমান সরকার তার অনমনীয় ও আগ্রাসী অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।
এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানের বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে যেসব উসকানি দেয়া হচ্ছে, আমরা তার কঠোর বিরোধিতা করি।’
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি আঙ্কারার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তুরস্ক দৃঢ়ভাবে কাজ করবে।
ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। এসব নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা এগিয়ে নিতে এবং তাদের ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সম্মানিত প্রতিনিধিদলের সফরের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই এবং পুরো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই।’