চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গোয়াইনঘাটের ওসি ওমর ফারুকের , ৮১ দিনে গ্রেপ্তার ২৫৩
Reporter Name
/ ১৮
Time View
Update :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Share
চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গোয়াইনঘাটের ওসি ওমর ফারুকের , ৮১ দিনে গ্রেপ্তার ২৫৩
মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান কঠোর একই সময়ে ৬০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করে থানা পুলিশ। সিলেটের সীমান্তঘেঁষা গোয়াইনঘাটে মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনে বিভিন্ন মামলায় ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মাদক মামলায় ৩২ জন,...
21
মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান কঠোর একই সময়ে ৬০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করে থানা পুলিশ।
সিলেটের সীমান্তঘেঁষা গোয়াইনঘাটে মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনে বিভিন্ন মামলায় ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদকসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, সাজাপ্রাপ্ত জিআর পরোয়ানায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সাজাপ্রাপ্ত সিআর পরোয়ানায় ১১ জন, নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পরোয়ানা তামিল ও নিষ্পত্তির কার্যক্রমও চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযানে ২৮টি মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১ দশমিক ৫ পুরিয়া গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি।
চোরাচালানবিরোধী ১৭টি মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার ২০০ টাকা; ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, যার মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা; ৯ হাজার ৮৭২টি বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য পণ্য, ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও প্রসাধনী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় আইফোন, অন্যান্য মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মালামাল বহনে ব্যবহৃত একটি পুরোনো নম্বরবিহীন সিএনজি, একটি পিকআপ, একটি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ও কয়েকটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসেই জুলাই ২০২৬-এর জন্য সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক মোড়ল। গত ৪ আগস্ট মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাঁর হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। মামলা ও পরোয়ানা নিষ্পত্তি, নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগেও গোয়াইনঘাটে মামলা হয়েছে। গত ১৯ জুন চেঙ্গেরখাল নদীতে ইউনিয়ন পরিষদের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। অভিযোগে ভুয়া রসিদ ব্যবহার করে টাকা আদায়ের কথাও বলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধারাবাহিক অভিযানের পর পুলিশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়লের দাবি, পুলিশের অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্বার্থান্বেষী চক্র অবৈধ সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, “গোয়াইনঘাটকে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা চোরাচালান করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযানের পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।