পাকিস্তান মানেই পেস বোলিংয়ের ঐতিহ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর উন্নতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকেও এখন আত্মবিশ্বাসের জায়গায় দেখছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, দুই দলের পেস আক্রমণই ভালো, তবে নিজের দলকে তিনি সামান্য এগিয়ে রাখবেন।
শান্তর এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে আছে বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক উন্নতি। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলামদের মতো পেসাররা এখন বিভিন্ন কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারছেন। অধিনায়ক হিসেবে এটিই তার জন্য বড় স্বস্তি।
শান্ত বলেন, ‘দুই দলেরই ভালো পেস আক্রমণ। কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের পেস বোলিং নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তারা খুব ভালো দল। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমাদের পেসাররা যেভাবে বল করছে, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
তাসকিনকে দলে পাওয়া শান্তর জন্য বড় শক্তি। ফিটনেস, ইনজুরি ও ওয়ার্কলোডের কারণে তাকে সবসময় টেস্টে পাওয়া যায় না। তবে শান্ত জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা তাসকিনের সবসময়ই থাকে। এবার ফিজিও ও ট্রেনারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে ফিট ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাষায়, ‘সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তাসকিন সবসময় টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। ফিটনেস, ইনজুরি বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে সবসময় তাকে রাখা যায় না। কিন্তু এই টেস্টের আগে ট্রেনার-ফিজিওর সঙ্গে লম্বা আলোচনা হয়েছে, সে খেলার জন্য ফিট।’
তাসকিনের উপস্থিতি অধিনায়কের কাজ সহজ করে দেয় বলেও জানিয়েছেন শান্ত। তার কথা, ‘তাসকিন যখনই দলে থাকে, অধিনায়কের জন্য সহজ হয়ে যায়। দলের জন্য বাড়তি একটা এফোর্ট সবসময় পাই আমরা তার কাছ থেকে। আশা করব, এই সিরিজটা সে ভালো করবে।’
নাহিদ রানাকে নিয়েও শান্তর মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস আছে। তিনি জানিয়েছেন, নাহিদকে আগে থেকেই চেনেন। তাই এই এক্সপ্রেস পেসার কীভাবে ভাবেন, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন, সেটি তার জানা। অধিনায়ক হিসেবে তাকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাই কোনো সংশয় নেই শান্তর।
শান্ত বলেন, ‘রানাকে আমি একদম ছোট থেকে চিনি। আমি জানি সে কী চিন্তা করে, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে, কী চায়। ওকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমার কোনো দ্বিধা নেই। টেস্ট ক্রিকেটে এখনও নতুন, কিন্তু খুবই এক্সাইটিং। একজন অধিনায়কের অধীনে এমন এক্সপ্রেস পেসার থাকা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা।’
বাংলাদেশের পেস শক্তি বাড়ায় স্পিনারদের কাজও সহজ হতে পারে বলে মনে করেন শান্ত। আগে অনেক সময় স্পিনারদের দীর্ঘ স্পেল করতে হতো, বিশ্রামের সুযোগ কম থাকত। এখন পেস ও স্পিনের ভারসাম্য দলকে আরও কার্যকর করতে পারে।
শান্ত বলেন, ‘পেস বোলাররা বাড়তি সাহায্য করবে। আগে দেখা যেত, স্পিনাররা অনেক লম্বা সময় বল করত, তাদের ব্রেক কম থাকত। এখন পেস ও স্পিনের কম্বিনেশন যদি ঠিকমতো কাজ করে, দল অনেক উপকৃত হবে।’
ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়েও কথা বলেছেন শান্ত। আক্রমণাত্মক ওপেনারকে নিজের স্বাভাবিক ধরনে খেলতে দেখতে চান তিনি। টেস্টে এসে তাকে বদলে ফেলতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শান্তর ভাষায়, ‘তানজিদ তামিম যেভাবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে, ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই সে ওভাবেই খেলুক। সে এভাবে খেললে যেদিন লম্বা ইনিংস খেলবে, দল অটোমেটিক ভালো পজিশনে থাকবে। তামিমের মতো চরিত্র দলের জন্য বাড়তি ইমপ্যাক্ট রাখবে।’
তবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট মানেই নির্দিষ্ট রানরেটের চাপ নয়। শান্তর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের ভূমিকা ও রান। ১০ ওভারে ৫০ রান এলেও সমস্যা নেই, আবার ১০ ওভারে ২০ রান হলেও সমস্যা নেই, যদি ব্যাটসম্যান নিজের দায়িত্ব পালন করেন।