স্টাফ রিপোর্টঃ
সিলেটের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ড. নুরুল ইসলাম বাবুল এবার সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁকে আসন্ন সিসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
ড. নুরুল ইসলাম বাবুল বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর শাখার নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সিলেট শহরতলীর কামালবাজার এলাকার আদি বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীতে বসবাস করছেন।
রাজপথের রাজনীতি থেকে নির্বাচনী মাঠে
ড. বাবুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছাত্ররাজনীতি। তিনি সিলেট মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে সংঘটিত রাজনৈতিক সংঘাতের সময় তিনি হামলার শিকার হন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
সেই সময়ের রাজপথের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্বে উঠে এসে বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন।
কেন বাবুলকে বেছে নিল জামায়াত?
সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণার আগে দলটির ভেতরে আরও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র ড. বাবুলকেই মনোনয়ন দেয়।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরবাসীর নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সিলেটকে একটি ইনসাফভিত্তিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য মডেল নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সততা ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নগরবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
সিলেট সিটি করপোরেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর রাজনৈতিক এলাকা। এখানে মেয়র নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি, নাগরিক সমস্যা সম্পর্কে ধারণা এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ড. বাবুলের সামনে তাই একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলীয় ভোটব্যাংককে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাধারণ নগরবাসীর কাছে নিজের নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ফুটপাত, নাগরিক নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন, নগর পরিকল্পনা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান—এসব ইস্যুতে তাঁর অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগের প্রস্তুতি
প্রার্থী ঘোষণার পরপরই সিলেট মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় সাংগঠনিক গণসংযোগ জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ফলে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনী যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে রাজপথের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে নগরবাসীর ভোটের রাজনীতিতে রূপ দেওয়া।
রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মাঠে থাকা এই নেতা এবার ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব তৈরি করতে পারেন—সেদিকেই নজর থাকবে সিলেটের রাজনৈতিক মহলের। একই সঙ্গে তাঁর প্রার্থিতা সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সামগ্রিক সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
সিলেটের রাজপথ থেকে ভোটের মাঠ—ড. নুরুল ইসলাম বাবুলের এই নতুন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের মাঠেই।