• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে যুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, হবে সাত ধাপে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে মেধাবীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের চোরের মায়ের বড় গলা, ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ আসিফের অবস্থাও সেরকম: রাশেদ খান রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে সিলেটে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, রাজমিস্ত্রি যুবককে পুলিশে সোপর্দ ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহকে অপসারণের দাবি ঢাবি ছাত্রদলের আম্বরখানায় নাগরী লিপিতে সাইনবোর্ড, ফিরছে সিলেটের হারানো ঐতিহ্য হাকালুকি হাওরে মিলছে রুপালি ইলিশ ভুকশিমইলে ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল: এমপিকে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ায় সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘রাসূল (সা.)-এর সুশাসন ও জীবন দর্শনই শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির পথ’ এক দশকে এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার আহ্বান রাষ্ট্রপ্রতির আগমনে রূপ বদলাচ্ছে সিলেট সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক: হেফাজতে ইসলাম মাধবপুরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ইউএনওর গাড়ির সংঘর্ষ,আহত ১ তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রভাব চা শিল্পে, উৎপাদনে ভাটা সিলেট মহানগর ৩৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের জনশক্তি সমাবেশ শায়খে কাতিয়ার সাহেবজাদা মাওলানা ইমদাদুল্লাহ আমিনীর দাফন সম্পন্ন

আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

Reporter Name / ১৮৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

262

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করব। আমরা আগেও তা প্রমাণ করেছি। আমাদের সাবেক আমিরে জামায়াত ও সেক্রেটারি জেনারেল তিনটি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দুর্নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সততার সঙ্গে দেশ সেবা করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি পলিসি সামিট ২০২৬ আয়োজন করেছে। এতে কি নোট উপস্থাপনকালে জামায়াত আমির এসব মন্তব্য করেন।

এক লিখিত বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পথচলা গড়ে উঠেছে স্বাধীনতার এক দীর্ঘ ও এখনো অসমাপ্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে—রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম। ১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ডের মানুষ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল, এই আশায় যে স্বাধীনতা ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও সুযোগ এনে দেবে। ১৯৭১ সালে অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, এই প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুলে দেবে। কিন্তু পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পূর্ণ হয়নি।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহিতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, আর নাগরিকরা বারবার তাদের ন্যায্য কণ্ঠস্বর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গত সতেরো বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করেছে। আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আবারও মানুষ, বিশেষ করে আমাদের তরুণরা, তাদের কণ্ঠ, অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের জন্য দাঁড়িয়ে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে সামগ্রিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্ধকার সময় পার করে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি সময়ে, যেখানে দেশ পুনর্গঠনে আমাদের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আজ আমাদের চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। অর্থনীতি বেড়েছে, কিন্তু কাজের মান কমেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। অধিকাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক, অনিরাপদ ও কম মজুরির। তরুণ গ্র্যাজুয়েটরা শিক্ষাকে সুযোগে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নারীরা এখনও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ছেন। লাখো মানুষ প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও সামান্য একটি ধাক্কায় সংকটে পড়ে যাওয়ার অবস্থায় আছেন। এই বাস্তবতাগুলোকে আমাদের সৎভাবে মোকাবিলা করতে হবে। শুধু প্রবৃদ্ধি আর যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক সাফল্য মাপতে হবে এই প্রশ্নে—মানুষ কি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারছে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার চালাতে পারছে, এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারছে কি না।

সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল সম্ভাবনাময় দেশ। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মানুষ। বাংলাদেশে রয়েছে একটি তরুণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী কর্মশক্তি, যারা চাপের মধ্যেও বারবার দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। কৃষি থেকে শিল্প, সেবা খাত থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি শ্রমিকরা সীমিত স্বীকৃতি ও সহায়তার মধ্যেও অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন।

প্রবাসীদের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের বাইরে লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবারকে সহায়তা করে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখে এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করে। তবে তাদের অবদান শুধু অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন, এবং অনেকেই আরও বড়ভাবে অবদান রাখতে আগ্রহী।

নারীদের ভূমিকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যতে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বাধা সত্ত্বেও নারীরা ইতোমধ্যে জাতি গঠনে সক্রিয়—শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, উদ্যোক্তা, স্থানীয় নেতা ও সামাজিক উদ্ভাবক হিসেবে। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণ অংশগ্রহণ থেকে বাদ দিয়ে কোনো দেশ টেকসইভাবে সমৃদ্ধ হতে পারে না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র যখন ন্যায্য ও পূর্বানুমেয়ভাবে সেবা দেয়, তখন নাগরিকরা আস্থা, আইন মেনে চলা ও উদ্যোগের মাধ্যমে সাড়া দেয়। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করব। আমরা আগেও তা প্রমাণ করেছি। আমাদের সাবেক আমিরে জামায়াত ও সেক্রেটারি জেনারেল তিনটি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দুর্নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সততার সঙ্গে দেশ সেবা করেছেন। পাশাপাশি এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের নেতাদের দক্ষতা ও সততা প্রশাসনিক দক্ষতায় রূপ নিয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ইনসাফ, মর্যাদা ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমাদের জুলাইয়ের শহীদ বীরদের—আবু সাঈদ, মুগ্ধ, সান্তো, ওয়াসিম ও ওসমান হাদির—ত্যাগ বৃথা যাবে না। আমাদের মানুষের শক্তি, প্রবাসীদের অঙ্গীকার, নারীদের নেতৃত্ব, তরুণদের উদ্যম এবং বিশ্বজুড়ে বন্ধুদের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা সবার জন্য একটি ন্যায্য, সমতাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd