মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির ঐতিহাসিক কাউন্সিলে সাবেক ছাত্রনেতাদের নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে। শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে শুরু করে পরবর্তীতে যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব দেওয়া এসব পরীক্ষিত নেতা।
জানা যায়, কাউন্সিলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং কুলাউড়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে টানা পাঁচবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বাচ্চু। তিনি ৪৯৩ ভোট পেয়ে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকু’কে (৪২৫ ভোট) পরাজিত করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল। তিনি ৩৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩২৯ ভোট।
সিনিয়র সহসভাপতি পদে সাবেক ছাত্রনেতা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল ৩৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান মনির পান ৩৪৮ ভোট।
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং জয়চন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু। তিনি ৪১৮ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মইনুল হক বকুলকে (৩৩৮ ভোট) পরাজিত করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত মেম্বার আব্দুল মুক্তাদির মনু। তিনি ৩২৮ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপার আহমদকে (২৫৩ ভোট) হারান।
উল্লেখ্য, জয়নাল আবেদীন বাচ্চু এবং বদরুজ্জামান সজল ২০১৯ সালের কাউন্সিলেও যথাক্রমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শনিবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রেদওয়ান খান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি. কে গউছ, সাবেক এমপি নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট আবেদ রাজাসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।