বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের কারণে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের উপকূল এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ইতোমধ্যে সিলেটের চারটি জেলাসহ ছয়টি জেলায় বৃষ্টির কারণে বন্যার পূর্বাভাস পাঠিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এই বৃষ্টিতে এসব এলাকার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে দেওয়া পূর্বাভাসে উল্লেখ করা ছয় জেলার মধ্যে পাঁচটি হচ্ছে হাওরাঞ্চলের জেলা। সেগুলো হলো-সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই মূলত দেশের ছয় জেলায় বন্যা হতে পারে। এর মধ্যে আছে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ফেনী। ফেনী বাদ দিয়ে বাকি পাঁচ জেলা হাওর অঞ্চলের।’
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ইতোমধ্যে সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির শুরু হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই, খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ সময় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় এসব নদী–সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী তিন দিন পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই, খলাই ও সোমেশ্বরী নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এই সময় নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেনী জেলার মুহুরী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দুদিন পর এই নদীর পানি কমে আসতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র বলছে, আগামী দুই দিন পর্যন্ত বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় জোয়ার দেখা যেতে পারে।