সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালত চত্বরে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার উদ্দেশ্যে হাজতখানা থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার মো. মনজুরুল আলম গণপিটুনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। নিহত শিশু ফাহিমা আক্তার একই গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। সম্পর্কে জাকির নিহত ফাহিমার প্রতিবেশী চাচা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ছিল ফাহিমা হত্যা মামলার নির্ধারিত তারিখ। সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামি জাকিরকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। দুপুরে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতের এজলাসে নেওয়ার পথে উপস্থিত সাধারণ মানুষ তার ওপর চড়াও হয় এবং গণপিটুনি দেয়। এসময় পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে আদালতে নিয়ে যায়।
৬ মে নিখোঁজ হয় ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার। নিখোঁজের দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ মে রাতে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্বীকার করে যে, ধর্ষণচেষ্টার সময় ফাহিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মরদেহ গুম করার কাজে জাকিরের দুই ভাই জয়নাল ও কালাম তাকে সহযোগিতা করে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, যার বহিঃপ্রকাশ আজ বুধবার আদালত চত্বরে ঘটে।