• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার -এমপি লুনা কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত মরক্কো আয় ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতাও নেই,ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই সাবেক এমপি অধ্যক্ষ ফরিদ চৌধুরীর ইন্তেকাল কানাইঘাটে জানাযা আজ বিকেল ৪টায় কুলাউড়ায় বিএসএফের গু লি তে বাংলাদেশি নি হ ত হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা সিলেটে পুলিশের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ক্রিকেটার নাঈমকে ডিবি পরিচয়ে মারধর, থানায় নিয়ে হেনস্তা পয়েন্ট ভাগাভাগিতে শেষ কানাডা-বসনিয়া লড়াই নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়বে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ, অনুপাত ১:৯ ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় সিউক এর নতুন চেয়ারম্যান কয়েস লোদী বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন জেনিফার? তিন লাল কার্ডের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর শুভসূচনা এবারের বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত, উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন দুধ দিয়ে গোসল সেরে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক সীমিত সম্পদের মধ্যে দেশের সবাইকে স্বস্তি দিতে এ বাজেট: অর্থমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

মেঘনার বুকে জন্ম, সেখানে সংসার, সেখানেই মৃত্যু

Reporter Name / ৬৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

98

জাহানুর বিবি জানেন না তাঁর বয়স কত। শৈশবের স্মৃতি বলতে তাঁর আছে নৌকায় পাতা বাবা-মায়ের সংসার আর তাঁদের সঙ্গে মেঘনার জলের বুকে ভেসে থাকার বিরতিহীন যাত্রা। তাঁর জন্ম এই নৌকায়। অল্প বয়সে বিয়ের পর সংসার গড়েছেন আরেক নৌকায়। এখন হয়তো বয়স ৪০ বা কিছুটা বেশি। পুরো একটা জীবন তাঁর কেটে গেল এই জলের বুকে।

জাহানুর বিবির সঙ্গে দেখা হয় ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাটের অদূরে মেঘনার তীরে। দুপুরের প্রখর রোদে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। একটু পরই মাছ ধরতে যাবেন নদীতে। তাঁর পরনের সুতির শাড়ির আঁচল হাতের মুঠিতে নিয়ে কিছু একটা আবদার করছিল একটি শিশু। আমার দিকে হেসে বললেন, ‘ও আমার মেয়ে, নাম কোহিনূর।’ শিশুটির চোখের মণি দুটি হীরার মতো। নামের প্রতি সুবিচার তার চাহনিতে।ইলিশা ঘাট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজাপুর খাল। এটি মেঘনায় পড়েছে। ভাসমান এই জীবনের আশ্রয় হিসেবে এখন খালেই রাত যাপন করেন তাঁরা। সেখানে আছে আরও শ খানেক পরিবার। সবাই মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা মূলত জলযাযাবর। নিজেদের বেদে হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।জাহানুর বিবি বললেন, ‘আমাদের জাগা নাই, জমিন নাই। কী খাইয়া বাঁচমু? মাছ ধরা ছাড়া উপায় নাই। চাইর মেয়ে, এক ছেলে আমার। স্বামী–সন্তানদের নিয়া মাছ ধরি। এই ধরেন, হাতিয়া, রামগতি, মতিরহাট—এদিকেও চলে যাই মাছ ধরতে। আশপাশে ঘাট যেখানে পাই, সেখানে বেচে দিই।

মানতাদের এখন জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তাঁরা ভোটও দেন। তবে এর বাইরে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কোনো সুযোগ তাঁরা পান না। তাঁদের জেলে কার্ড নেই, ফলে সরকারের তরফে কোনো বরাদ্দের আওতায় তাঁরা পড়েন না।

জাহানুর বিবির সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, পাশে বসেছিলেন তাঁর স্বামী মো. ইব্রাহিম। বয়স একবার বললেন ৫০, আবার বললেন ৫৫। তাঁরও জন্ম এমন একটি নৌকায়। এতগুলো বছর ধরে জলযাযাবরের জীবন কাটিয়ে এখন তিনি ক্লান্ত। মাটির বুকে একটি ঘর পেতে চান তিনি। সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মতো কোনো একটাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই চলবে। তিনি বললেন, ‘ঝড়ের মধ্যে স্ত্রী, বাচ্চাকাইচ্চা নিয়া মরি, না বাঁচি, আল্লায় রাখবে, না লইয়া যাইবে—এর ঠিক থাকে না। একখান ঘর হইলে খুব সুবিধা হয়।’

আমাদের শহুরে কিংবা গ্রামীণ মানুষদের জীবনে উৎসব, আনন্দ কিংবা বেদনা পালনের যেমন সুযোগ থাকে—জাহানুর বিবিদের তা নেই। তাঁদের আছে কেবল সংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াই। মাছ ধরতে পারলে তা বেচে চুলায় হাঁড়ি চড়বে। ফলে রোদ-বৃষ্টির দোহাই নেই। আবার যতই ঝড় আসুক, এই নৌকায়, এই জলের বুকে তাঁদের ভেসে থাকতে হবে। এই পৃথিবীর বুকে সত্যিই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাঁদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd