আয় ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতাও নেই,ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই
Reporter Name
/ ১৮
Time View
Update :
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
Share
আয় ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতাও নেই,ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই
সিলেটে আগত প্রায় প্রতিটি দর্শনার্থীই অন্তত একবার শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে...
33
সিলেটে আগত প্রায় প্রতিটি দর্শনার্থীই অন্তত একবার শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে মানত, দান ও নজরানা প্রদান করেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দানও জমা পড়ে মাজারে।
প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার দান আসে এসব মাজারে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা কত টাকা আয় হচ্ছে; এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৩ সালে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহ্যবাহী গজার মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে দরগাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। সে সময় সংবাদমাধ্যমে মাজারের বিপুল আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন মাজার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, মাজারের দানের অর্থের একটি অংশ বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারীদের ব্যয়ে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট অর্থ মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।
কিন্তু সেই ব্যয়ের কোনো সুসংগঠিত ও জনসম্মুখে উপস্থাপিত হিসাব কখনো দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল ছিল।
বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দরগাহ দুটির বর্তমান আয়-ব্যয়, দান-অনুদান, প্রশাসনিক কাঠামো, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাবপত্র চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা গেছে।
সভায় বক্তারা বলেন, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর দরগাহ শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সিলেটবাসীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের অংশ। তাই এর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
এসময় বক্তরা আরও উল্লেখ করেন, এসব দরগাহ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র সিলেটবাসীর সম্পদ। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালনা করা জরুরি।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় পরিচালনা এবং নিয়মিত অডিটের বিষয়েও মতামত দেন।
এই বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম আয় ব্যয়ের হিসাব বিষয়ে জানান, আয় ব্যয়ের মধ্যে কোনো সচ্ছতাও নেই। ওদের কাছে কোনো হিসাব নেই। তিনি বলেন, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের সঠিক চিত্র, দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।