একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে হোম ডেলিভারির কাজ নিতে গিয়ে কেনা মোটরসাইকেলটিই কাল হলো তরুণ প্রিয়ন্ত দাস (২২)-এর জীবনে। এক সহকর্মীর বাড়ি থেকে বেড়ানো শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। প্রিয়ন্তের বাবা প্রদীপ দাসের আক্ষেপ, ‘এই মোটরসাইকেল আমার ছেলেটার জীবন নিল।’
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়কের দক্ষিণ সাগরনাল এলাকায়। প্রিয়ন্ত দাস পাশের বড়লেখা উপজেলার পানিসাওয়া গ্রামের প্রদীপ দাসের ছেলে। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার প্রিয়ন্তের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। এই সুযোগে তিনি বন্ধু শোভন দাসকে নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে জুড়ীর ফুলতলা চা-বাগানে এক সহকর্মীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রিয়ন্ত মারা যান। অন্যদিকে, বন্ধু শোভন দাসের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রিয়ন্তর বাবা প্রদীপ দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলেটা (প্রিয়ন্ত) কলেজে লেখাপড়া করত। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার আগে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে চাকরি খুঁজছিল। আড়াই-তিন মাস আগে বলল, একটা চাকরি মিলেছে, মোটরসাইকেল লাগব। কিনি দিলাম। এই মোটরসাইকেল আমার ছেলেটার জীবন নিল।
জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উস্তার মিয়া জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার রাতেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রিয়ন্তের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জুড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি কেস) নথিভুক্ত করা হয়েছে।