• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
হাম উপসর্গে আরো ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১০০৫ জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না- ডা. শফিকুর রহমান গাজায় ২০২৩ সালের পর এতিম হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি শিশু পুলিশও হবেন, দলীয় এজেন্ডাও বাস্তবায়ন করবেন—এটা হতে পারে না, বললেন হাসনাত হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা মিরাজ বাদ, সাদা বলের দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক লিটন ওসমানীনগরে এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে শঙ্কা, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ৫ দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ শিশুর মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন প্রক্রিয়া টেকসইয়ে গুরুত্বারোপ ছাত্রদল-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি ইউএনওকে সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত এমপি এখনো পুড়ছে সিলেট, যেমন থাকবে বুধবারের আবহাওয়া হাসপাতালে নেয়ার সময়ও হামলাকারীরা থামেনি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কাটছে না মোদির ‘তেলাপোকা’ ভয়! টানা চার দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর আসি আসি বলে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ লাইসেন্স ফিরে পেলো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সিলেটে ফুটবল ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার চলছে: এমপি নাছির চৌধুরী

রংপুরে জামায়াত জোটের তোপে তছনছ জাপা

Reporter Name / ২৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

286

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে রাজনৈতিক পালাবদলে বড় চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনগুলো এবার একপ্রকার তছনছ হয়ে গেছে, ৬টি আসনের ৫টিতে সরাসরি জয়ী হয়েছেন জামায়াত, আর একটিতে জয়ী হয়েছেন জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। ঘোষিত ফলাফলে উঠে আসে এ তথ্য।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক)

জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।

বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। দুটি উপজেলার ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৬৪৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এখানে ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৭ হাজার ২০৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)

জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এখানে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ৪০৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন। এখানকার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এদিকে, রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেউ কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারো পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদী বেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।

ভোটের দিন সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য। জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd