স্টাফ রিপোর্টার : ৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বহুল প্রত্যাশা নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমাবন্দর থেকে চালু হওয়া সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট। ফলে উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই থমকে গেছে কার্গো ভিলেজের কার্যক্রম। ফ্লাইটগুলো শুধুমাত্র পোশাক নির্ভর হওয়ায় থেমে গেছে এর কার্যক্রম।
য়ীরা জানান, পণ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা না থাকায় কৃষিপণ্য ও সবজি রপ্তানি সম্ভব হয়নি। কার্গোর পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরীক্ষার জন্য একটি আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরীক্ষামূলক যাচাই ছাড়া পণ্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় পুরো উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়ে।
পক্ষের দাবি, আপাতত কার্গো ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। তবে বিদেশি আমদানিকারকদের আগ্রহ থাকলে পুনরায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব।
জানা গেছে, সিলেটের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সরাসরি কার্গো ফ্লাইটটি চালু করা হয়েছিল। বিশেষ করে সিলেটে উৎপাদিত সবজি, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মনে করেছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল গ্যালিস্টেয়ার এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় একটি কার্গো বিমান ৬০ টন তৈরি পোশাক নিয়ে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ওই ফ্লাইটকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে বিদায় জানায়। এরপর সাত মাসে সিলেট থেকে ইউরোপের দেশ স্পেনে মোট ৪১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এসব ফ্লাইটে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ টন তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়। তবে হঠাৎ করেই গত নভেম্বর থেকে সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অথচ কার্গো ফ্লাইটগুলো শুধুমাত্র তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এক পণ্যের ওপর নির্ভরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কার্গো ফ্লাইট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কার্গো টার্মিনালটি অচল হয়ে পড়বে। প্যাকেজিং সুবিধা ও ল্যাব টেস্টিং ব্যবস্থা না থাকায় কার্গো কার্যক্রম টেকসই হয়নি। এতে কৃষিপণ্য, সবজি ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়, সময় ও ঝুঁকি।
যুক্তরাজ্যের এক্সপ্রেস কার্গোর স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনামুল করিম বলেন, বিমানবন্দরে যদি প্যাকেজিং সিস্টেম ও মান যাচাইয়ের ল্যাব স্থাপন না করা হয়, তাহলে সিলেট থেকে কার্গো রপ্তানি কখনোই টেকসই হবে না। এ কারণেই ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, সিলেট থেকে রপ্তানিকৃত সব পণ্যই ছিল তৈরি পোশাক, যা মূলত চার্টার্ড বিমানে পাঠানো হতো। শীত মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে না।
এক ব্যবসায়ী নেতা জানান, প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং ব্যবস্থা ও পরীক্ষাগার না থাকায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। পরীক্ষামূলক যাচাই ছাড়া পণ্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় পুরো উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমেদ বলেন, কার্গো ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। তারা স্থগিতাদেশ তুলে নিলে আবার ফ্লাইট চলবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোন ত্রুটি নেই। বরং পুরো সিস্টেম স্বাভাবিক রয়েছে। কার্গো হাউজও প্রস্তুত রয়েছে।