সুনামগঞ্জ জেলায় জাতি গঠনে শিশুবান্ধব সাংবাদিকতা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শিশুর প্রারাম্ভিক বিকাশ এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার মোট ১৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের জাহিদুল হক খানের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনারগোজ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেজওয়ান হক খান, সিআইপিআরবি এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. আল-আমীন ভূইয়া, সমষ্টি পরিচালক রেজাউল হক, শিশু একাডেমি সুনামগঞ্জের জেলা কর্মকর্তা বাদল রায়, সিনিয়র সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, শোয়েব চৌধুরী, খলিল রহমান, মাসুম হেলাল, মুহাম্মদ আমিনুল হক, এ আর জুয়েল এবং কর্ণ বাবু দাস।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর ও নোয়াখালী এলাকার শিশু যত্নকারী প্রতিষ্ঠান এবং মাচা তৈরি করে সাঁতার শেখানোর প্রকল্প পরিদর্শন করানো হয়।
নোয়াখালীর রুবেল হোসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পানিতে ডুবে অস্বাভাবিক শিশু মৃত্যু বাড়ছেই। তা রোধ করতে সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে শিশুদের মাচায় সাঁতার শেখানো হচ্ছে, যা খুবই ভালো উদ্যোগ।
আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যাতে কোনো শিশু দুর্ঘটনার শিকার না হয়, এজন্যই প্রকল্পটি কাজ করছে।
গাজীনগর গ্রামের যত্নকারী মহিলা অযুফা আক্তার জানান, সাঁতার শেখার পাশাপাশি কিভাবে একটি শিশু আরেকটি শিশুকে পানিতে ডুবে গেলে উদ্ধার করবে, আগুন লাগলে নিজেকে রক্ষা করবে, আমরা এসব শিখাই। শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ, সুরক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা হয়।
গাজীনগরের অভিভাবক সালমা আক্তার বলেন, আমাদের সেন্টারে যত্নসহকারেই শিশুদের শেখানো হয়। কোবাদ মিয়ার পুকুরে ছেলে শিশুদের জন্য আলাদা পুরুষ সাঁতার প্রশিক্ষক দিয়ে সাঁতার শেখানো হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শিশু যত্ন কেন্দ্রে ১-৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয় বলে জানান যত্নকেন্দ্রের অযুফা আক্তার। তাঁর সহ-যত্নকারি জেরিন আক্তার বলেন,”কেন্দ্রে আমরা দুইজন ‘গিভার কেয়ার’ মায়ের যত্ন দিই। তাদেরকে ছড়া, গল্প শুনানোর সঙ্গে শেখানো হয় এবং আপন ভুবনে শিশুদের ঘুমাতে দেওয়া হয়।
নোয়াখালী এলাকার সাঁতার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি পুকুরে বাঁশ দিয়ে দুটো মাচা তৈরি করা হয়েছে। শিশুদের জন্য এখানে আপন ভুবন, রঙের ভুবন, গল্পের ভুবন এবং স্বপ্নের ভুবনসহ চারটি ভুবন রয়েছে।